রাজশাহীর চারঘাটে হঠাৎ বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় কৃষি খাতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই বৃষ্টি আম চাষিদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এলেও ঝোড়ো হাওয়ায় আধা পাকা গম মাটিতে নুইয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। ফসল ঘরে তোলার আগমুহূর্তে এমন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে চরম হতাশায় দিন কাটছে তাঁদের।
রোববার (১৫ মার্চ) রাতে উপজেলাজুড়ে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টিপাত হয়। আম চাষিরা জানান, মুকুল আসার পর থেকে দীর্ঘ অনাবৃষ্টি ও তীব্র রোদে তাঁরা বেশ চিন্তিত ছিলেন। রোববারের বৃষ্টিতে আমের মুকুল ও গাছ ধুয়ে যাওয়ায় রোগবালাইয়ের আশঙ্কা কমেছে এবং প্রাকৃতিক সেচের কাজ হয়েছে। চারঘাটের পরানপুর এলাকার আমচাষি আনোয়ার হোসেন বলেন, "অনাবৃষ্টির কারণে মুকুল নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। এই বৃষ্টিতে আমের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সাশ্রয় হবে সেচ খরচও।"
তবে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে গমের মাঠে। দমকা হাওয়ায় শত শত বিঘা জমির আধা পাকা গম মাটিতে নুইয়ে পড়েছে। কৃষকদের দাবি, কয়েক দিনের মধ্যেই গম ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তাঁরা। কিন্তু হঠাৎ ঝড়ে লাভের পরিবর্তে এখন উৎপাদন খরচ তোলা নিয়েই তাঁরা শঙ্কিত। রাওথা এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, "আমার পাঁচ বিঘা জমির গম ঝড়ে শুয়ে পড়েছে। এতে ফলন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। লাভের স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।"
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি বছর চারঘাটে রেকর্ড ৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে গম চাষ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১০০ হেক্টর বেশি।
এ বিষয়ে চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আল মামুন হাসান বলেন, "ঝড়ে কিছু গম হেলে পড়লেও রোদ উঠলে তা অনেকটাই ঠিক হয়ে যাবে বলে আশা করছি। তাই বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা কম। তবে এই বৃষ্টি আমসহ অন্যান্য ফসলের জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments