Image description

ফেনীর ‎পরশুরামে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ঈদগাহের নামে কবরস্থানের জমি দখল করে রাখার পর জমি উদ্ধার করেছে প্রশাসন।  এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে প্রশাসনের ভূমিকায় তা নিরসন করা হয়। 

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকালে উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের নরনীয়া গ্রামের একটি কবরস্থানে  ‎১৩৮ দাগের ২২ শতক সরকারি খাসজমি উদ্ধার করেছেন পরশুরাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম শাফায়াত আকতার নুর।

এ সময় পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো:আশরাফুল ইসলামসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

‎বিবাদমান ঈঁদগাহে ঈদের নামাজ আদায়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।

‎ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এসিল্যান্ড এসএম শাফায়াত আকতার নুর জানান,গ্রামবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে সরকারি খাসভূমি হিসেবে সত্যতা পাওয়া যায়। সরকারি নিয়ম মেনে জেলা প্রশাসক ফেনী নামীয় ২১ং খোদাবক্সপুর মৌজার ১ নং খাস খতিয়ান ভুক্ত বি.এস ১৩৮ দাগ, শ্রেণী:কবরের স্থান থাকায় মোট জমি ২১ শতক  জায়গা সরকারি খাস জমিতে অনুমতি ব্যতীত সকল প্রকার কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। 

‎স্থানীয় বাসিন্দা সালেহ আহমেদ চৌধুরী বলেন, এটি আমাদের মুরুশী কবরস্থান। ২০২১ সালে  জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলে তখনকার এসিল্যান্ড নু এমং মারমা মং,উপজেলা সার্ভেয়ার কবির আহমেদসহ উপজেলা ভূমি অফিসার কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত হয়ে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে জমিটি  উদ্ধার করেন। কিন্তু সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল বাশার তপনের খালাতো ভাই মাওলানা নুরবক্স ও জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে জোরপূর্বক সরকারী খাসজমি  আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের মাধ্যমে দখলে নেয়।

এর আগে ২০২১ সালে তৎকালীন পরশুরাম উপজেলার এসিল্যান্ড নু এমং মারমা মং নরনীয়ার সেই সরকারি খাস জায়গায় সরকারি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করেন। কিন্তু রাতের আঁধারে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সহযোগিতায় সাইনবোর্ড সরিয়ে বেআইনি ভাবে জোরপূর্বক ঈঁদগাহ স্থাপন করা হয়।

এসিল্যান্ড এসএম শাফায়াত আকতার নুর জানান, অনুমতি প্রদানকারী একমাত্র ক্ষমতার মালিক জেলা প্রশাসক। তিনি অনুমতি দিতে পারেন।কিন্তু এ জাতীয় কোনো অনুমতিপত্র বা কোনো ডকুমেন্ট তারা দেখাতে পারেননি। জমিটি ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত শ্রেনি হওয়ায় জায়গাটি কাউকে ব্যবহার করার জন্য অনুমতি দিচ্ছি না।