সীতাকুণ্ডে কিশোরীকে ধর্ষণের বিচার তো মেলেইনি, উল্টো বাবার জরিমানা!
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকায় ১৫ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় পৈশাচিকতার চরম সীমা অতিক্রম করেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা হওয়া কিশোরীর গর্ভের সন্তান জোরপূর্বক নষ্ট করা, বিচারের নামে ‘প্রহসনের সালিশ’ বসিয়ে উল্টো নির্যাতিতার বাবাকেই ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা এবং দেশত্যাগের হুমকির মতো রোমহর্ষক সব তথ্য বেরিয়ে আসছে।
ঘটনাটি ঘটেছে সীতাকুণ্ডের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে ভাটিয়ারী পোর্টলিংক কনটেইনার ডিপোর ‘মনাঘোনা’ নামক পাহাড়ি এলাকায়। ভুক্তভোগী পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র; পাহাড়ের পাদদেশে পরের জায়গায় পানের দোকান ও বর্গা গরু পালন করে কোনোমতে জীবনযাপন করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বর মাসে ওই কিশোরীকে ফুসলিয়ে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন ৬৬ বছর বয়সী বৃদ্ধ মাহবুবুল আলম। এতে কিশোরী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ঘটনাটি জানাজানি হয়। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গত ৮ মে অভিযুক্তের অনুসারী একদল যুবক কিশোরীকে জোরপূর্বক চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গর্ভপাত করায়। এরপর ঘটনাটি সামাজিকভাবে মীমাংসার চাপ দেওয়া হয়।
অভিযোগ উঠেছে, গত এপ্রিল মাসে স্থানীয় একটি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সালিশি বৈঠকে ধর্ষক মাহবুবুল আলমকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বিস্ময়করভাবে, কিশোরীর বাবাকেও সমপরিমাণ (৫০ হাজার টাকা) জরিমানা করা হয় যাতে সেই টাকা দিয়ে কিশোরীকে বিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু জরিমানার টাকা পরিশোধ না করে উল্টো ওই কিশোরীর পরিবারকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয় এবং তাদের বসতঘর ও দোকান ভাঙচুর করার চেষ্টা করা হয়।
সবশেষ গত সোমবার (১৮ মে) কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলেন—মাহবুবুল আলম, ফয়জুল হক, রিপন ও চান মিয়া। পরদিন পুলিশ তিন নম্বর আসামি রিপনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। তবে মামলার পর থেকেই অভিযুক্তরা বাদীকে জিম্মি করে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিচ্ছে এবং এলাকা ছাড়ার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, “ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে এবং এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরার চেষ্টা চলছে। ধর্ষণের মতো ঘটনায় সামাজিক সালিশ করার কোনো সুযোগ নেই। যারা এই বেআইনি বিচারের নামে প্রহসন করেছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।”
বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। নির্যাতিতা কিশোরীর মায়ের বুকফাটা আর্তনাদে জঙ্গল ভাটিয়ারি গ্রামের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। তারা প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments