Image description

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন হেলালের বিরুদ্ধে ঠিকাদারি ব্যবসা, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি চাকরি বিধিমালা উপেক্ষা করে একই কর্মস্থলে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে কর্মরত থাকায় তিনি একচ্ছত্র আধিপত্য ও প্রভাবশালী বলয় গড়ে তুলেছেন বলে দাবি বিক্ষুব্ধ কর্মচারী ও স্থানীয়দের।

পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জাকির হোসেন হেলাল ১৯৯৫ সালে লাইসেন্স পরিদর্শক হিসেবে এই পৌরসভায় যোগদান করেন। ২০০৩ সালে প্রধান সহকারী এবং ২০০৫ সাল থেকে ৯ম গ্রেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সময় পর বদলির বিধান থাকলেও তিনি রহস্যজনকভাবে তিন দশক ধরে একই স্থানে বহাল রয়েছেন। ২০১২ সালে খাগড়াছড়ির রামগড় এবং ২০২৫ সালে নোয়াখালীর কবিরহাট পৌরসভায় তার বদলির আদেশ হলেও প্রতিবারই তা অদৃশ্য ইশারায় স্থগিত হয়ে যায়।

ভুক্তভোগী কর্মচারীদের অভিযোগ, জাকির হোসেন পদের প্রভাব খাটিয়ে বেনামে ঠিকাদারি ব্যবসায় লিপ্ত রয়েছেন। তার অনিয়মের প্রতিবাদ করলেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। দীর্ঘদিনের প্রভাবে তিনি পৌরসভায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন, যার মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন খাত থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকলে স্বার্থের সংঘাত ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত তার বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন হেলাল বলেন, “আমি বিধি-বিধান মেনেই চাকরি করছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক কাজী আতিকুর রহমান জানান, ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর