Image description

যশোরের কেশবপুরে হরিহর নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে এসেছেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ হারুন। 

রোববার (১২ জুলাই) সকাল ৬টায় তিনি উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় ভাঙনকবলিত স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

সম্প্রতি হরিহর নদী খননের পর টানা ভারী বর্ষণে নদীর পাড় নরম হয়ে বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। গত শুক্রবার মুহূর্তের মধ্যে ৪টি বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এই হৃদয়বিদারক ঘটনা নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা, ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়। এর প্রেক্ষিতেই বিভাগীয় কমিশনার রোববার ভোরেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

পরিদর্শনকালে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, "ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে একা ফেলে রাখা হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।" তিনি জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে নদীর তীর সংরক্ষণ এবং ভাঙন নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা প্রদান করেন। সেই সঙ্গে গৃহহীন পরিবারগুলোর স্থায়ী পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

নদী ভাঙনে সব হারানো ক্ষতিগ্রস্ত বিল্লাল হোসেন বলেন, "চোখের সামনে মুহূর্তের মধ্যে ঘরবাড়ি নদীতে তলিয়ে গেল। জীবনের সব সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে।" স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী খননের পর থেকেই পাড় দুর্বল হয়ে পড়েছিল। টানা বৃষ্টিতে সেই দুর্বল অংশ ভেঙে এই বিপর্যয় ঘটেছে। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না করলে আরও অনেক ঘরবাড়ি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

এর আগে খবর পেয়ে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোকসানা খাতুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে শুকনো খাবারসহ জরুরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। পরবর্তীতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী মো. মেশকাতুল ইসলামের মাধ্যমেও ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হয়।

পরিদর্শনকালে বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকসানা খাতুন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী মো. মেশকাতুল ইসলাম, কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), সংবাদকর্মী আবু হুরায়রা রাসেলসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।

মানবকণ্ঠ/ডিআর