টানা এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে লণ্ডভণ্ড কক্সবাজারে অবশেষে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। পানি নামার সাথে সাথে ভেসে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতচিহ্ন। সুপেয় পানি, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রীর তীব্র সংকটে বর্তমানে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন লাখো মানুষ।
জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ পর্যন্ত পানিতে ডুবে ও মাটিচাপায় জেলায় মোট ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলার ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬৯টিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি কিছুটা কমলেও এখনো প্রায় আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রোববার বিকেল থেকে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় সদর, চকরিয়া, পেকুয়া, রামু ও টেকনাফসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নামছে। তবে গ্রামীণ সড়ক ও বসতবাড়িতে এখনো জলাবদ্ধতা রয়ে গেছে। অধিকাংশ নলকূপ বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় নিরাপদ পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
পেকুয়া এলাকার বাসিন্দা সাকিব হাসান বলেন, “পানি নামলেও এখন প্রধান সমস্যা বিশুদ্ধ পানির। চারদিকে শুধু কাদা আর ময়লা।”
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, পরিস্থিতি উন্নত হওয়ায় সতর্ক সংকেত প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার নৌযান চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। তবে মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী চকরিয়া ও পেকুয়া এলাকায় এখনো দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।
সেখানকার বাসিন্দা মহিউদ্দিন রনি জানান, তিন দিন পানিবন্দি থাকার পর পানি কমলেও এলাকায় খাবার ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন চকরিয়ায় ত্রাণ বিতরণকালে বলেন, "বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি মানুষ সরকারি সহায়তা পাবে। পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ না কমা পর্যন্ত ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান জানান, জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখনো হাজারো মানুষ অবস্থান করছেন। তাদের জন্য রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নামলেও জোয়ারের কারণে জলাবদ্ধতা পুরোপুরি কাটতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments