বিচারপ্রার্থী মানুষের জন্য দ্রুত, সহজ ও হয়রানিমুক্ত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভোলায় ‘বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের ফলে এখন থেকে আদালতে মামলা দায়েরের আগেই নির্ধারিত সাত ধরনের বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে বিচারপ্রার্থীদের সময় ও অর্থ—উভয়েরই সাশ্রয় হবে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে ভোলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হলরুমে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পারিবারিক আদালত আইন-২০২৩-এর ধারা ৫-এ উল্লেখিত বিষয়সমূহ, বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯১-এর অধীন বিরোধ, সিভিল জজ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বণ্টনসংক্রান্ত (বাটোয়ারা) বিরোধ, পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনসংক্রান্ত বিরোধ এবং যৌতুকসংক্রান্ত অভিযোগসহ মোট সাত ধরনের বিরোধ বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতার আওতায় আনা হয়েছে। ফলে আইনি জটিলতায় যাওয়ার আগেই আলোচনার মাধ্যমে পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার পথ প্রশস্ত হলো।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভোলা জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান শরীফ এ. এম. রেজা জাকের।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভোলা আপিল আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, শিশু সহিংসতা ও অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়া, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেম মোহাম্মদ নোমান, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বেল্লাল হোসেন, মো. এনায়েত উল্লাহ, এ. এস. এম. তারিক শামস এবং জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার শহিদুল ইসলামসহ বিচার বিভাগের অন্যান্য বিচারকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি), আইনজীবী এবং বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বক্তারা এই উদ্যোগকে বিচার বিভাগের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন এবং সাধারণ মানুষকে এই সুযোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments