Image description

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরসভার রাইগ্রামের নাম উচ্চারণ করতে আজও অস্বস্তি বোধ করেন স্থানীয় তরুণ-তরুণীরা। দীর্ঘ চার দশক ধরে চলে আসা মাদক ব্যবসার কারণে গ্রামটি ‘হেরোইনপল্লি’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়ায় এই নেতিবাচক পরিচয়ের বোঝা বইতে হচ্ছে পুরো গ্রামের নিরীহ বাসিন্দাদের।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা এই দীর্ঘদিনের গ্লানি থেকে মুক্তির আকুতি জানান।

পলাশবাড়ী পৌরসভা থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাইগ্রাম। বাইরে থেকে সাধারণ গ্রামের মতো মনে হলেও স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দশক ধরে এখানে একটি শক্তিশালী মাদক চক্র সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ৪০ বছর আগে আবদুল জব্বার নামের এক ব্যক্তির হাত ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সূচনা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফেনসিডিল ও গাঁজার পাশাপাশি গ্রামটি হেরোইন বিক্রির প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়। বর্তমানে একাধিক পরিবারের কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ এমনকি নারীরাও এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।

গ্রামবাসীরা জানান, মাত্র কয়েকজনের অপরাধের কারণে পুরো গ্রামের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। গ্রামের এই কুখ্যাতির কারণে অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিচ্ছে। শিক্ষা, চাকরি ও সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বাসিন্দাদের নানা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কারবারিদের প্রভাবের কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করার সাহস পান না; যারা প্রতিবাদ করেছেন তারা নানা হুমকি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার ও কারবারিদের গ্রেপ্তার করলেও তারা জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকসেবীদের আনাগোনা থামানো সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবদুল জব্বারের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

গাইবান্ধা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, "রাইগ্রামে মাদক নির্মূলে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কাজ চলছে। এই অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।"

গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শরীফ আল রাজীব (পিপিএম) বলেন, "শুধু আইনি অভিযান দিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এর জন্য পরিবার, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন।"

গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম লেবু বলেন, "মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে। অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি মাদকাসক্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

দীর্ঘ চার দশকের মাদকের কালিমা মুছে রাইগ্রাম আবার একটি নিরাপদ ও আদর্শ জনপদ হিসেবে পরিচিতি পাবে—এমনটাই এখন স্থানীয় সাধারণ মানুষের একমাত্র প্রত্যাশা।

মানবকণ্ঠ/ডিআর