জাজিরায় একদিনের ব্যবধানে ফের শক্তিশালী বিস্ফোরণ
টয়লেটের ছাদ ধসে পানির ট্যাংক উড়ে গেল
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় একদিনের ব্যবধানে আবারও শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিলাসপুর ইউনিয়নে এক প্রবাসীর বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে বিস্ফোরণের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বি কে নগর ইউনিয়নে একটি বসতবাড়ির টয়লেটে এই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে টয়লেটের ছাদ ধসে পড়ে এবং ওপরের পানির ট্যাংকটি ছিটকে দূরে গিয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বি কে নগর ইউনিয়নের কদম আলী মাদবর কান্দি গ্রামের জব্বার মাদবরের বাড়িতে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিকট শব্দে এলাকা কেঁপে উঠলে স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে জাজিরা থানা পুলিশের একটি তদন্ত দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে কী ধরনের বিস্ফোরক সেখানে ছিল এবং কীভাবে তা সেখানে এল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এর মাত্র একদিন আগে ২৭ জুলাই সন্ধ্যায় বিলাসপুর ইউনিয়নের সিঙ্গাপুর প্রবাসী মো. আলী উজ্জামাল হাওলাদারের বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। পরপর দুই দিনে পৃথক দুটি ইউনিয়নে এ ধরনের বিস্ফোরণে জাজিরার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর ভাষ্য, গত কয়েক মাসে জাজিরা উপজেলায়—বিশেষ করে বিলাসপুর ইউনিয়নে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ, কবরস্থান থেকে বিপুল পরিমাণ তাজা ককটেল উদ্ধার, বিস্ফোরণে ৩ জনের প্রাণহানি এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শতাধিক ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক এ ধরনের অরাজকতায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ্ আহম্মদ জানান, “খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিস্ফোরকটি আগে থেকেই সেখানে রাখা ছিল এবং প্রচণ্ড রোদের তাপে সেটি বিস্ফোরিত হতে পারে। আমরা প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments