Image description

হবিগঞ্জের মাধবপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় অনুষ্ঠিত একটি হাডুডু খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নাসিরনগর উপজেলার খান্দুরা সালামবাজার সংলগ্ন মাঠে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাধবপুর উপজেলার শিমুলঘর গ্রাম ও নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল গ্রামের মধ্যে এই হাডুডু প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। খেলার প্রথমার্ধ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও দ্বিতীয়ার্ধে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, খেলা চলাকালে শিমুলঘর গ্রামের এক খেলোয়াড়কে ধরমন্ডল দলের কয়েকজন খেলোয়াড় মারধর করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। মুহূর্তেই খেলোয়াড়দের সঙ্গে দুই গ্রামের সমর্থকরাও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

শিমুলঘর দলের খেলোয়াড় ও স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে খেলা পরিচালনা কমিটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি কমিটির কয়েকজন সদস্য ধরমন্ডল পক্ষের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন বলেও তারা দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, ধরমন্ডল ও খান্দুরা একই থানার আওতাভুক্ত হওয়ায় আয়োজক কমিটি স্থানীয় আবেগের বশবর্তী হয়ে একপেশে ভূমিকা পালন করেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংঘর্ষে শিমুলঘর একাদশের পক্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন— মৃত কালু মিয়ার ছেলে সাজু মিয়া (৩০), ফজলু রহমান (৪০), শেখ কবির মিয়ার ছেলে শেখ ফরহাদ (৩০), আছকির মিয়ার ছেলে এমরান (২৯), মো. ছোয়াব মিয়া লস্করের ছেলে মো. মানিক মিয়া লস্কর (২৫) এবং আরব আলীর ছেলে ফখরুল হাসান (৪৭)। তাদের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসাধীনদের মধ্যে শেখ ফরহাদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এছাড়া আরও অনেক আহত ব্যক্তি স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সংঘর্ষ চলাকালে খান্দুরা কমিটির কয়েকজন সদস্যও ধরমন্ডল পক্ষের হয়ে শিমুলঘরের লোকজনের ওপর হামলায় সরাসরি অংশ নেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, "ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

এদিকে, সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর