Image description

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় সরকারি প্রকল্পের বরাদ্দের প্রায় অর্ধেক অর্থ সাশ্রয় করে তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে খাল খনন, পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন শেষে এই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় উপজেলার মহিষাখালী খালের ১ দশমিক ৬২০ কিলোমিটার এবং গঙ্গাজলী খালের ২ দশমিক ১০০ কিলোমিটারসহ মোট ৩ দশমিক ৭২০ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। জেলা কর্ণধার কমিটির অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মানসম্মতভাবে এই কাজ শেষ করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এই খালগুলো পুনঃখননের ফলে এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন হবে। পাশাপাশি সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষিত হবে।

প্রকল্পটির জন্য সরকার মোট ৯৫ লাখ ৮৭ হাজার ৩৩ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের দক্ষ পরিকল্পনা, স্বচ্ছ বাস্তবায়ন ও মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকির মাধ্যমে কাজ শেষ করেও ৪৭ লাখ ৬৫ হাজার ৯৯৬ টাকা সাশ্রয় হয়। সাশ্রয়কৃত এই বিশাল অংকের অর্থ নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

মনোহরদী সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বদরুল ইসলাম মোল্লা (বাবুল) বলেন, "সাধারণত সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম বা অর্থ অপচয়ের কথা শোনা যায়। কিন্তু মনোহরদী ইউএনও মহোদয় কাজও ঠিকঠাক করেছেন আবার বরাদ্দের অর্ধেক টাকা ফেরত দিয়েছেন—এটি সত্যিই প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয় একটি উদ্যোগ। সংশ্লিষ্ট সকলকে আমি ধন্যবাদ জানাই।"

এ বিষয়ে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এ মুহাইমিন আল জিহান বলেন, "সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের আন্তরিক সহযোগিতা এবং পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে জনস্বার্থে সর্বোচ্চ সুফল পাওয়া। নির্ধারিত মান বজায় রেখে কাজ শেষ করার পর যে অর্থ উদ্বৃত্ত ছিল, তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।"

উপজেলা প্রশাসনের এই সততা ও কর্মদক্ষতা স্থানীয় মহলে সুশাসন ও স্বচ্ছতার এক অনন্য নজির হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর