Image description

সুনামগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের বেহাল দশা চরমে পৌঁছেছে। সড়কের প্রায় ১৩ কিলোমিটার অংশের অন্তত ১০টি স্থানে ভয়াবহ ভাঙন ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় এটি এখন কার্যত 'মরণফাঁদে' পরিণত হয়েছে। সংস্কারের অভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া এই সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী, পথচারী ও যানবাহন চালক চরম আতঙ্কের মধ্যে চলাচল করছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত মেরামত করা না হলে যেকোনো সময় এখানে বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

রোববার (০২ আগস্ট) সরেজমিনে গোবিন্দগঞ্জ থেকে ছাতক পর্যন্ত সড়কটি ঘুরে দেখা যায়, তকিপুর এলাকায় প্রায় ৩০০ ফুট সড়কজুড়ে বিশাল বিশাল গর্ত ও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। ঝাওয়া পুলিশ বক্সের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে প্রায় ২০০ ফুট এলাকাজুড়ে এক থেকে দেড় ফুট গভীর অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে। এছাড়া সুফিনগর, তাজপুর, হাসনাবাদ, মাধবপুর, হাসান চত্বর, ২ নম্বর সেতু এলাকা এবং রহমতবাগসহ অন্তত ১০টি স্থানে সড়কের একই করুণ চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে।

সড়কের দুরবস্থার পাশাপাশি ঝাওয়া থেকে তাজপুর পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে ঝোপঝাড় ও জঙ্গল বেড়ে যাওয়ায় অনেক স্থানে রাস্তা সংকুচিত হয়ে গেছে। বিশেষ করে হাসনাবাদ থেকে গোবিন্দগঞ্জ পর্যন্ত সড়কের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। বিভিন্ন স্থানে সড়ক দেবে গিয়ে ঢেউখেলানো আকার ধারণ করেছে এবং বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় মালবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগী স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে এই ১২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে সর্বোচ্চ ২০ মিনিট সময় লাগলেও বর্তমানে বেহাল রাস্তার কারণে একই পথ পাড়ি দিতে প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি মুমূর্ষু রোগী ও গর্ভবতী নারী পরিবহনে অবর্ণনীয় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে নিয়মিত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

একাধিক চালক জানান, সড়কের বড় বড় গর্তের কারণে প্রতিনিয়ত তাদের যানবাহনের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ছোটখাটো দুর্ঘটনা লেগেই আছে। বিশেষ করে পণ্যবাহী ভারী যানবাহনগুলো যেকোনো সময় উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলা সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সোহেল আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক সাজিদুর রহমান বলেন, "এটি উপজেলার অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। বর্তমানে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ে এই সড়ক সংস্কারের জোর দাবি জানাচ্ছি।"

এ বিষয়ে ছাতক সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাদাৎ হোসেন বলেন, "সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থার কথা আমরা জানি। জনদুর্ভোগ লাঘবে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য শীঘ্রই কাজ শুরু করা হবে।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর