Image description

নরসিংদীর বেলাবো উপজেলা লটকন চাষের জন্য দেশজুড়ে পরিচিত হলেও এখন বিদেশি ফল রামবুটান চাষে অভাবনীয় সাফল্য দেখাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। মালয়েশিয়ান এই ফলের বাণিজ্যিক চাষে বাম্পার ফলন ও চড়া দাম পাওয়ায় দিন দিন বাড়ছে চাষিদের আগ্রহ। বাগান থেকেই পাইকাররা ফল কিনে নেওয়ায় বিপণন নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে না বাগান মালিকদের।

স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বেলাবো উপজেলায় প্রায় আড়াই হেক্টর জমিতে পাঁচ হাজার রামবুটান গাছ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫০টি গাছে এবার ফল এসেছে। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি রামবুটান ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং খুচরা বাজারে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

লাখপুর গ্রামের একটি রামবুটান বাগানের শ্রমিক মো. সেলিম ভূঁইয়া জানান, রামবুটান চাষে নিয়মিত পরিচর্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুকুল আসার আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ ডাল ছাঁটাই করতে হয়, তবে অতিরিক্ত ছাঁটাই করলে আবার ফলন কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলের ব্যাপক চাহিদা থাকায় পাইকাররা সরাসরি বাগান থেকে ফল সংগ্রহ করছেন।

বাগান মালিক শফিকুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, প্রথমে তিনি আম ও পেয়ারার বাগান করলেও আশানুরূপ লাভ পাননি। পরে গাজীপুর থেকে রামবুটানের চারা এনে বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করেন। চারা লাগানোর দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই ফল আসতে শুরু করে। প্রথম বছরেই তিনি প্রায় ১৫ লাখ টাকার রামবুটান বিক্রি করেছেন। একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ থেকে বছরে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করা সম্ভব। চলতি মৌসুমে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার ফল বিক্রির আশা করছেন তিনি।

ধুকুন্দি কালিয়ােরমোড় এলাকার রামবুটান চাষি পারভেজ আহমেদ জানান, তিনি প্রায় সাত বছর আগে ৫০ বিঘা জমিতে ১২০টি গাছ নিয়ে রামবুটান চাষ শুরু করেন। এর মধ্যে ৫০টি গাছে এবার ফল এসেছে। ইতিমধ্যে তিনি প্রায় ৮ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন। তিনি আরও জানান, কিছু পুরুষ গাছে ফল না আসলেও কলমের মাধ্যমে সেগুলোকে ফলনশীল করা সম্ভব। তারা নিজেরাও বীজ ও কলমের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করছেন।

বেলাবো উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহিবুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, “রামবুটান বেলাবোর মাটি ও আবহাওয়ার সঙ্গে বেশ মানিয়ে গেছে। এই গাছে রোগবালাই তুলনামূলক কম। পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলে কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে চারা উৎপাদন হওয়ায় নতুন উদ্যোক্তারাও আগ্রহী হচ্ছেন। বাণিজ্যিক চাষের মাধ্যমে কৃষকরা আর্থিকভাবে ব্যাপক লাভবান হতে পারেন।”

স্থানীয়দের মতে, রামবুটানের এই বাজার চাহিদা ও লাভজনক মূল্য ধরে রাখা গেলে বেলাবোতে এ ফলের চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর