বাউফলে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী তালিকায় মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারীদের চূড়ান্ত তালিকায় মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এক ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বগা ইউনিয়নের সাবুপুরা গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ মাসুম হাওলাদারের নাম তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে তালিকায় রয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে পটুয়াখালী জেলা আদালত একটি মাদক মামলায় মাসুমকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। পরবর্তীতে তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেলেও তার সাজার বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি এখনো শেষ হয়নি। ফলে আইনগতভাবে তার ওপর আরোপিত সাজা এখনো বহাল রয়েছে। একজন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি কীভাবে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব পেলেন, তা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে, একই তালিকায় ২ নম্বরে থাকা রত্না আক্তারের নাম নিয়েও বির্তক তৈরি হয়েছে। তিনি সাবুপুরা গ্রামের রফিক মৃধার মেয়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রত্না আক্তার ও তার পরিবার আওয়ামী লীগপন্থী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে এই তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। ফলে প্রকৃত যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিরা বঞ্চিত হয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এমন বিতর্কিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হলে প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিতরা ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তারা অবিলম্বে এই তালিকা বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন তালিকা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী নির্বাচন কমিটির সভাপতি সালেহ আহমেদ বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ও দ্রুত তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments