সোনারগাঁয়ে স্কুলছাত্রীকে লাথি মারা সেই কিশোর সংশোধনাগারে
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক স্কুলছাত্রীকে প্রকাশ্যে উত্ত্যক্ত ও লাথি মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তার করে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে টিসি (ছাড়পত্র) দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ের ওয়াকওয়ে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। সে সময় দিলসাদ হোসেন (১১) নামে এক কিশোর পেছন থেকে এক ছাত্রীকে পরপর দুবার লাথি মারে। এই ঘটনার একটি ভিডিও গত বৃহস্পতিবার ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। অভিযুক্ত দিলসাদ কাঁচপুর রায়েরটেক এলাকার ভাড়াটিয়া এবং তার বাবা পেশায় একজন রিকশাচালক।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সির নির্দেশে অভিযানে নামে পুলিশ। শনিবার (১০ আগস্ট) সকালে অভিযুক্ত কিশোরকে তার বাবা-মায়ের সহযোগিতায় রংপুর থেকে আটক করে সোনারগাঁ থানায় আনা হয়। পরে তাকে অপরাধ সংশোধনের জন্য প্রবেশন অফিসারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা অভিযোগ করেন, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ তার মেয়েকে টিসি দিয়ে বের করে দিয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা গরিব মানুষ, কাজ করে খাই। স্কুল থেকে টিসি দিয়ে দেওয়ায় এখন অন্য স্কুলে মেয়েকে ভর্তি করতে হবে।"
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন সরকার। তিনি দাবি করেন, ওই শিক্ষার্থী প্রায়ই স্কুল ফাঁকি দিয়ে বাইরে ঘোরাঘুরি করত। তাকে টিসি দেওয়া হয়নি, বরং ভবিষ্যতে এমন করলে টিসি দেওয়া হবে বলে তার অভিভাবকদের চিঠির মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে। ম্যানেজিং কমিটির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মো. মহিউদ্দিন মিয়াও একই দাবি করেছেন।
নির্যাতনের শিকার ছাত্রীকে সহানুভূতি না দেখিয়ে উল্টো তাকেই বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার বা সতর্ক করার বিষয়টি স্থানীয় মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহলের মতে, ভুক্তভোগীর পাশে না দাঁড়িয়ে তাকে দোষারোপ করা বা বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া অমানবিক।
বর্তমানে ওই ছাত্রীর পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে এবং অভিযুক্ত কিশোরকে আইনি প্রক্রিয়ায় সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments