Image description

একেকটি ভাষা, একেকটি গান আর একেকটি নৃত্য—সব মিলিয়ে যেন ফুটে উঠল বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির ছবি। কেউ গাইলেন নিজস্ব ভাষার গান, কেউ পরিবেশন করলেন ঐতিহ্যবাহী নৃত্য। আবার কেউ তুলে ধরলেন নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি ও অধিকার সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তৈরি হয় এমনই এক আবহ। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আদিবাসী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়।

‘Honouring Indigenous Midwives: Safeguarding Life and Well-being’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট চত্বরে ‘বৈচিত্র্যের সম্প্রীতি: আলোচনা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা’ শীর্ষক এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা পর্বে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, অধিকার, ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের বিষয় উঠে আসে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় আদিবাসী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের পথে থাকা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা নিয়েও কথা বলেন বক্তারা। বিশেষ করে দূরবর্তী পাহাড়ি অঞ্চল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের যাতায়াতসহ নানা সমস্যার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সহ-সভাপতি ইয়াছিন আল মৃদুল দেওয়ান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্ধশতাধিক আদিবাসী শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে তারা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। তাদের অধিকার রক্ষা ও যথাযথ মূল্যায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। আদিবাসী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা দরকার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শাহ আলম বলেন, পাহাড়ি এলাকা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতে হয়। বিভিন্ন প্রতিকূলতা অতিক্রম করে তারা উচ্চশিক্ষার জন্য এখানে আসেন।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে আরও বেশি আদিবাসী শিক্ষার্থী যেন বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি হতে পারেন, সে সুযোগ তৈরি করতে হবে। তাদের প্রতিভা বিকাশেও বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে হবে।

এসএ

স্বাগত বক্তব্যে গণ বিশ্ববিদ্যালয় ইন্ডিজেনাস স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (জিবিআইএসএ) সভাপতি অভিজিৎ চাকমা বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য দেশের বৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব সংরক্ষণ ও সবার সামনে তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় যেন সব জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগের জায়গা হয়ে ওঠে, সেটিই তাদের প্রত্যাশা। উচ্চশিক্ষায় আদিবাসী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আলোচনা সভা শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আদিবাসী শিক্ষার্থীরা নিজেদের জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী গান, নৃত্য, ভাষা ও সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ পরিবেশন করেন। তাদের পরিবেশনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তৈরি হয় ভিন্ন এক আবহ।

শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় উঠে আসে তাদের শেকড়ের গল্প, নিজস্ব সংস্কৃতির সৌন্দর্য এবং বৈচিত্র্যের মধ্যে সম্প্রীতির বার্তা। আয়োজনটি যেন মনে করিয়ে দেয়—ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতি মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে না; বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানই গড়ে তুলতে পারে আরও বৈচিত্র্যময় সমাজ।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কনক চন্দ্র রায়, ছাত্র উপদেষ্টা ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শাহ আলম, গকসুর সহ-সভাপতি ইয়াছিন আল মৃদুল দেওয়ানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এসএ