নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে স্ত্রী ও সন্তানের পর প্রাণ হারালেন মাইদুল
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ রাজমিস্ত্রি মাইদুল (২৪) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এর আগে একই দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী বিউটি ও ৮ বছরের সন্তান মারুফ মারা যান। এর ফলে ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণে একই পরিবারের আর কেউ বেঁচে রইলেন না।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা অবস্থায় মাইদুলের মৃত্যু হয়। ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাইদুলের শরীরের প্রায় ৮৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
এর আগে গত শনিবার সকালে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মাইদুলের ৮ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে মারুফ। তার শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। এরপর সোমবার সকালে মৃত্যু হয় স্ত্রী বিউটির (২৪), যার শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৭নং ওয়ার্ডের বন্দর উপজেলার কুড়িপাড়া চাপাতলি এলাকার সেলিম মিয়ার টিনশেড বাসায় এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা মাইদুল, বিউটি ও মারুফ গুরুতর দগ্ধ হন এবং আসবাবপত্র পুড়ে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত মাইদুল পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন। তাদের গ্রামের বাড়ি নাটোরে হলেও জীবিকার তাগিদে গত এক বছর ধরে সপরিবারে কুড়িপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, “তদন্তে দেখা গেছে টিনশেড ঘরের পাশের রান্নাঘরে তিতাসের গ্যাস লাইনের লিকেজ ছিল। সেখান থেকে দীর্ঘ সময় গ্যাস জমে থাকার পর আগুনের সংস্পর্শে আসতেই প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।”
ডিআর




Comments