রায়গঞ্জে ৮ প্রতিষ্ঠানে ১৪১ পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল, মাদরাসায় চড়ছে গবাদিপশু
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ২০২৬ সালের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উপজেলার আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৪১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও একজনও পাস করতে পারেনি। ফলাফল প্রকাশের পরদিন মঙ্গলবার সকালে এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েকটিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে তালাবদ্ধ ও পরিত্যক্ত চিত্র। এমনকি কৈড়া দাখিল মাদরাসার শ্রেণিকক্ষের দরজার সামনে গবাদিপশু বেঁধে রাখার দৃশ্যও চোখে পড়েছে।
মঙ্গলবার সকালে কৈড়া দাখিল মাদরাসা, হাসিল দাখিল মাদরাসাসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ঘুরে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানগুলোর চারপাশ ছিল অপরিচ্ছন্ন এবং আগাছায় ভরা। বিশেষ করে কৈড়া দাখিল মাদরাসার একটি শ্রেণিকক্ষের সামনে গরু বেঁধে রাখা হয়েছে, যা শিক্ষার পরিবেশের চরম অবনতিকেই ফুটিয়ে তুলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রায়হান শেখ বলেন, “বেতন না থাকায় অনেক সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মাদরাসায় আসেন না। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি অনেকটা পরিত্যক্ত থাকে এবং এখানে মাঝে মধ্যে গবাদিপশু বেঁধে রাখা হয়।” আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “মাঝে মাঝে শিক্ষকরা আসলেও শিক্ষার্থীরা না থাকায় তারা কিছুক্ষণ থেকে চলে যান। নিয়মিত পাঠদান না হলে ফলাফল এমন হওয়াটাই স্বাভাবিক।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া আটটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছয়টি দাখিল মাদরাসা এবং দুটি ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৪১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল, যাদের মধ্যে একজনও পাসের দেখা পায়নি।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল বলেন, “প্রতিষ্ঠানগুলোতে কেন এমন বিপর্যয়কর ফলাফল হলো, বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সরকারি বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, সরেজমিনে দেখা চিত্র এবং স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
ডিআর




Comments