নরসিংদীর বেলাবো উপজেলার বটেশ্বর বাজারে জমে উঠেছে বিলাতি ধনেপাতার জমজমাট হাট। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। বেলাবোসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা ক্ষেত থেকে তাজা ধনেপাতা নিয়ে আসেন এই বাজারে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকাররা এসব পাতা কিনে নিয়ে যান নিজ নিজ এলাকায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হিসাবে, প্রতিদিন এ বাজারে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার বিলাতি ধনেপাতা বেচাকেনা হয়। স্থানীয়দের দাবি, এটি দেশের সবচেয়ে বড় বিলাতি ধনেপাতার পাইকারি হাট।
বেলাবো ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকেরা এখানে ধনেপাতা নিয়ে আসেন। আর পাইকারি ক্রেতারা এখান থেকে পাতা কিনে কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করেন।
হবিগঞ্জ থেকে আসা পাইকার বোরহান উদ্দিন বলেন, “প্রতিদিন পিকআপ নিয়ে এই বাজারে পাতা কিনতে আসি। এক থেকে দেড় লাখ টাকার বিলাতি ধনেপাতা কিনি। পরে হবিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করি। বর্তমানে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত দরে ধনেপাতা কিনছি।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী হারুন খান বলেন, চার বছর ধরে এই বাজার থেকে ধনেপাতা কিনে কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করছি। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মূল বেচাকেনা হয়। এ বাজারে কৃষক ও পাইকারদের কাছ থেকে কোনো খাজনা নেওয়া হয় না। প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার ধনেপাতা বেচাকেনা হয়।
কৃষক সুলতান উদ্দিন খান বলেন, সকালে ক্ষেত থেকে ধনেপাতা তুলে দুপুরে বটেশ্বর বাজারে বিক্রি করি। গত বছরের তুলনায় এবার ফলন ভালো হয়েছে, তবে দাম কিছুটা কম পাচ্ছি।
কৃষক নাজমুনাহার জানান, তাঁর জমির কিছু ধনেপাতা গাছের গোড়ায় পচন ধরেছে। এতে গাছ হলুদ হয়ে যাচ্ছে এবং পাতা ঝরে পড়ছে। পাশাপাশি বাজারদরও আশানুরূপ না থাকায় কিছুটা হতাশ তিনি।
তবে ধনেপাতা চাষ করে লাভবান হয়েছেন গৃহিণী সাবানা বেগম। তিনি বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার ভালো বিক্রি হয়েছে। ধনেপাতা চাষ করে লাভবান হয়েছি।”
কৃষক মঞ্জিল মিয়া বলেন, “আমি ৮ থেকে ১০ শতাংশ জমিতে বিলাতি ধনেপাতা চাষ করেছি। খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকার পাতা বিক্রি করেছি। বেকার যুবকেরা চাইলে বিলাতি ধনেপাতা চাষ করে নিজেদের কর্মসংস্থান করতে পারেন।”
বেলাবো উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, গত বছর বেলাবো উপজেলায় ২৫ হেক্টর জমিতে বিলাতি ধনেপাতা চাষ হয়েছিল। চলতি বছর প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে এ চাষ হচ্ছে। অনাবাদি জমিকে আবাদে আওতায় আনতে বিলাতি ধনেপাতা চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন, বেলাবো উপজেলায় বিশেষ করে ফলবাগানের জমি রয়েছে। এসব বাগানে সারা বছর একটি ফসল থাকে। সেখানে বিলাতি ধনেপাতা চাষ করলে একই জমি থেকে দুটি ফসল উৎপাদন করা সম্ভব। এক বিঘা জমি থেকে কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। কৃষকদের আমরা নিয়মিতভাবে চাষাবাদ ও পরিচর্যার বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি।
স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, বিলাতি ধনেপাতার চাহিদা থাকায় বটেশ্বর বাজারকে ঘিরে কৃষক ও পাইকারদের মধ্যে তৈরি হয়েছে একটি বড় বাণিজ্যিক যোগাযোগ। বাজারে নিয়মিত বেচাকেনা ও ভালো দাম নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে বিলাতি ধনেপাতার চাষ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Comments