Image description

একসময় বড়াল নদীর ঘাট মানেই ছিল নৌকার সারি, মাঝির হাঁকডাক আর মানুষের কোলাহল। ভোরের আলো ফুটতেই ঘাটে ভিড়ত নৌকা। কেউ যেত বাজারে, কেউ কৃষিপণ্য নিয়ে পাড়ি দিত অন্য ঘাটে, আবার কেউ নৌকায় চড়ে যেত আত্মীয়ের বাড়ি। বৈঠার ছলাৎছল শব্দে মুখর থাকত নদীর বুক। সেই দিনগুলো এখন শুধুই স্মৃতি।

রাজশাহীর চারঘাটের বড়াল নদীর ঘাটে দাঁড়ালে আজও দেখা যায় নদী, দেখা যায় ঘাট। তবে আগের মতো চোখে পড়ে না নৌকার সারি, শোনা যায় না মাঝির সেই চেনা ডাক। নদীর সঙ্গে মানুষের যে নিবিড় সম্পর্ক ছিল, সময়ের স্রোতে তার অনেকটাই হারিয়ে গেছে।

স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দশক আগেও বড়াল নদী ছিল এলাকার মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগপথ। পালতোলা ও বৈঠার নৌকায় নদী পারাপার করতেন মানুষ। কৃষকের ধান, পাট, সবজি কিংবা ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন পণ্য নৌকায় করে পৌঁছে যেত বিভিন্ন হাট-বাজারে। মানুষের যাতায়াতেও নৌকাই ছিল অন্যতম ভরসা।

তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে যোগাযোগব্যবস্থা। সড়ক যোগাযোগের বিস্তার, দ্রুতগতির যানবাহনের প্রসার এবং নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় নৌকার প্রয়োজনীয়তা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। একে একে পেশা বদলেছেন অনেক মাঝি। কেউ কৃষিকাজে, কেউ শ্রমিকের কাজে যুক্ত হয়েছেন; আবার কেউ বেছে নিয়েছেন অন্য পেশা।

উপজেলার মুংলী গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা আজমল আলী স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আগে বড়াল নদীর ঘাটে দিনের শুরুই হতো নৌকার শব্দে। ঘাটে দাঁড়ালে একের পর এক নৌকা দেখা যেত। এখন সেই দৃশ্য শুধু মনে পড়ে। সময়ের সঙ্গে নৌকাগুলোও যেন হারিয়ে গেছে।’

জাহাঙ্গীরাবাদ গ্রামের রুস্তুম আলী বলেন, ‘নৌকা শুধু যাতায়াতের বাহন ছিল না, এটি ছিল আমাদের জীবনের অংশ। নৌকায় চড়ে স্কুলে যাওয়া, বাজারে যাওয়া কিংবা আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়ার অনেক স্মৃতি এখনও মনে পড়ে।’

স্থানীয়দের ভাষ্য, নদী ও ঘাটের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নৌকা ও মাঝিদের সেই ঐতিহ্য এখন বিলুপ্তির পথে। আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার কারণে নৌকার প্রয়োজন কমে গেলেও পুরোনো সেই দিনের স্মৃতি এখনও মানুষের মনে অমলিন।

কালের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া সেই নৌকাগুলো হয়তো আর আগের মতো ফিরবে না। তবে বড়ালের ঘাটের বুকে তাদের রেখে যাওয়া স্মৃতি এখনও জীবন্ত। নদী আছে, ঘাট আছে—শুধু নেই সেই নৌকা, নেই মাঝির সেই চেনা কণ্ঠস্বর।

এসএ