ফজরের দ্বিতীয় রাকাতে সেজদায় গিয়ে আর ওঠা হলো না ইমামের
দুই সন্তান রেখে চলে গেলেন আতাউল্লাহ
ফজরের সুন্নত নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে সেজদায় গিয়ে আর ওঠা হলো না হাফেজ মুহাম্মদ আতাউল্লাহর। সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরে পটুয়াখালীর সদর উপজেলার মৌকরন ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বাজার মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
হাফেজ মুহাম্মদ আতাউল্লাহ ওই মসজিদের ইমাম ছিলেন। প্রতিদিনের মতো সোমবার ভোরেও তিনি মসজিদে গিয়ে ফজরের সুন্নত নামাজ আদায় করছিলেন। নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে সেজদায় যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি না ওঠায় মুসল্লিরা কাছে গিয়ে দেখেন, তিনি মারা গেছেন।
আতাউল্লাহর বাড়ি দুমকী উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার বাজারসংলগ্ন এলাকায়। তিনি মাওলানা আব্দুস সালামের একমাত্র সন্তান। পটুয়াখালীর জামিয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করা আতাউল্লাহ ছিলেন দুই সন্তানের বাবা।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় দেড় বছর ধরে মৌকরন ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বাজার মসজিদে ইমামতি করছিলেন তিনি। ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গেও তাঁর ভালো সম্পর্ক ছিল। শান্ত স্বভাব ও ভদ্র আচরণের কারণে অল্প সময়েই মুসল্লিদের কাছে আপন হয়ে উঠেছিলেন আতাউল্লাহ।
এক প্রতিবেশী বলেন, “আতাউল্লাহ খুবই ভালো ও শান্ত প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন। নিয়মিত নামাজ পড়তেন এবং ধর্মীয় জীবনযাপন করতেন। তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।”
মামাতো ভাই মহিবুল্লাহ বলেন, “আতাউল্লাহ ছিলেন তাঁর বাবার একমাত্র সন্তান। তাঁর দুটি ছোট সন্তান রয়েছে। পরিবারের একমাত্র ছেলেকে এভাবে হারিয়ে স্বজনরা এখন শোকে ভেঙে পড়েছেন।”
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার জোহরের নামাজের পর দুমকীর শ্রীরামপুর বাজার মসজিদের সামনে আতাউল্লাহর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে আসরের নামাজের পর তাঁর নিজ বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এসএ




Comments