Image description

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে সংসদ সদস্য (এমপি) ভিপি মো. আয়নুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রকাশ্য অভিযোগ এবং মামলার এজাহারে থাকা আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। হামলার পর সংসদ সদস্য ভিপি মো. আয়নুল হক ও তাঁর সফরসঙ্গী ফয়সাল বিশ্বাস জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের দায়ী করলেও এজাহারে নাম থাকা ১৫ আসামির পরিচয় অনুসন্ধানে বিএনপি, ছাত্রশক্তি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে নাম থাকা আসামিদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী বা ইসলামী ছাত্রশিবিরের কোনো নেতাকর্মীর রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায়নি।

গত শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় রায়গঞ্জের ধানগড়া কাঁচাবাজার এলাকায় ডিটিসি স্থাপন নিয়ে মতবিনিময় সভা শেষে সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করে রায়গঞ্জ থানায় এজাহার দেওয়া হয়।

হামলার পর ভিপি মো. আয়নুল হক অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির ও এনসিপির নেতাকর্মীরা তাঁর গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছেন। একই অভিযোগ করেন তাঁর সফরসঙ্গী ফয়সাল বিশ্বাস।

তবে এজাহারে নাম থাকা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় অনুসন্ধান করে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।

মামলার ১ নম্বর আসামি মো. তমাল সরকার বিএনপির সক্রিয় কর্মী ও সমর্থক হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। নির্বাচনের শুরুতে তিনি বিএনপির এমপি প্রার্থী রাহিত মান্নান তালুকদার লেনিনের সমর্থক ছিলেন। পরে ভিপি মো. আয়নুল হক বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর তাঁর পক্ষে কাজ করেন।

২ নম্বর আসামি শেখ রিয়াদ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রায়গঞ্জ উপজেলা শাখার সদস্যসচিব। ৩ নম্বর আসামি শ্রাবণ বিএনপি-সমর্থিত পরিবারের সদস্য এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হিসেবে পরিচিত।

৪ নম্বর আসামি মো. আশিক রায়গঞ্জ উপজেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক। ৫ নম্বর আসামি সিমান্ত তালুকদার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা। ৬ নম্বর আসামি প্রান্ত তালুকদার একজন শিক্ষার্থী এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

৭ নম্বর আসামি মো. সিফাত রায়গঞ্জ পৌর ছাত্রশক্তির সদস্যসচিব। ৮ নম্বর আসামি মো. গোলাম মুক্তাদির (মুক্তাকিন) রায়গঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ও রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।

৯ নম্বর আসামি আবু রহমান, ১০ নম্বর মো. জনি, ১২ নম্বর মো. মামুন এবং ১৪ নম্বর মো. রাফিউল স্থানীয়ভাবে বিএনপি-সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ১১ নম্বর আসামি মো. আলমগীর একজন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী। ১৩ নম্বর আসামি জিসান রায়গঞ্জ পৌর ছাত্রশক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ১৫ নম্বর আসামি জোবায়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হিসেবে পরিচিত।

মামলার বাদী খন্দকার মো. শামীমুল হাসান বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদেরই আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি পরিবারের কয়েকজন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা রয়েছেন। জামায়াত-শিবিরের কেউ আছেন কি না, তা এখনো সঠিকভাবে বলতে পারছি না।’

ঘটনার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী-শিবিরের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এসএম মনসুর আলী। তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে জামায়াত-শিবিরের কোনো নেতাকর্মী ছিলেন না। ডিটিসি স্থাপনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের বিরোধের জেরেই এমপির গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা শুনেছি। এমপির সফরসঙ্গী ফয়সাল বিশ্বাসের উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণেও এ ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি।’

এনসিপির রায়গঞ্জ উপজেলা শাখার ছাত্রশক্তির সদস্যসচিব রেজোয়ান হাসান সিফাত বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে এনসিপির কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা নেই। বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনাকে জামায়াত-এনসিপির ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো প্রমাণ ছাড়া এনসিপিকে দায়ী করার ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় এনসিপির কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করা হবে।’

ঘটনার পর এমপি ও তাঁর সফরসঙ্গীর বক্তব্যে জামায়াত-শিবির ও এনসিপিকে হামলার জন্য দায়ী করা হলেও মামলার এজাহারে নাম থাকা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয়ে বিএনপি, ছাত্রশক্তি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি মামলার বাদী নিজেও এজাহারে বিএনপি পরিবারের কয়েকজন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা থাকার কথা জানিয়েছেন।

তবে কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় থাকা মানেই তিনি হামলায় জড়িত ছিলেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। একইভাবে এজাহারে নাম থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়।

হামলার সময় কারা ঘটনাস্থলে ছিলেন, কারা সরাসরি হামলায় অংশ নিয়েছেন এবং ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ বা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তেই স্পষ্ট হবে। ফলে মামলার তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ওপরই এখন নির্ভর করছে ঘটনার প্রকৃত চিত্র।

এসএ