দেশজুড়ে বেড়েছে লোডশেডিং। বিশেষ করে গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছে শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীরা। দিনের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রেণিকক্ষে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান, আর রাতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নষ্ট হচ্ছে পড়াশোনা ও ঘুমের সময়।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতির সাম্প্রতিক তথ্যেও সংকটের চিত্র স্পষ্ট। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ আগস্ট দেশে গড়ে ২ হাজার ৭২২ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। ২০২৪ সালের একই দিনের তুলনায় এ পরিমাণ প্রায় ১৮ গুণ বেশি। আর ২০২২ সালের ৫৫ মেগাওয়াটের তুলনায় পাঁচ বছরে লোডশেডিং বেড়েছে প্রায় ৪৯ দশমিক ৫ গুণ।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) ঘণ্টাভিত্তিক বিদ্যুৎ সরবরাহ, চাহিদা ও ঘাটতির তথ্য প্রকাশ করে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ আগস্ট রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে দেশে সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছিল ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট।
এদিকে ১৬ আগস্টের পূর্বাভাসেও বিদ্যুৎ ঘাটতির আশঙ্কা ছিল। পিজিসিবির হিসাবে ওই দিন দিনের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ১৮০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ চাহিদা ১৭ হাজার ৮৫০ মেগাওয়াট। এর আগের দিন ১৫ আগস্ট প্রকৃত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছিল ১৫ হাজার ৯১ মেগাওয়াট, বিপরীতে চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৯০ মেগাওয়াট।
ফলে উৎপাদন ও চাহিদার ব্যবধানের চাপ সরাসরি গিয়ে পড়ছে গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষের ওপর। তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনা, ঘুম ও দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে।
দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে উৎপাদন বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম।
তিনি বলেন, দেশে যে উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে, সেটি কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হবে। আর উৎপাদন বাড়াতে হলে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের ভর্তুকি অব্যাহত রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
শামসুল আলম বলেন, সামর্থ্যবানরা ক্যাপটিভ বা ডিজেল জেনারেটরের মাধ্যমে বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে পারেন। কিন্তু গ্রামের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সেই সামর্থ্য নেই। তাদের কাছে বিদ্যুৎ কোনো বিলাসিতা নয়, প্রয়োজনীয় সেবা। তাই সাধারণ মানুষের চাহিদা পূরণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ—দুই ক্ষেত্রেই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এসএস




Comments