Image description

আজ ১৯ আগস্ট, বিশ্ব ওরাংওটাং দিবস। বিশ্বের অন্যতম বুদ্ধিমান এই প্রাণীটির বিলুপ্তি রোধ, সংরক্ষণ এবং তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবছর এই দিবসটি পালিত হয়। ২০১৩ সালের ১৯ আগস্ট প্রথমবার দিবসটি পালিত হওয়ার পর থেকে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করা হচ্ছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রেইনফরেস্টে বসবাসকারী এই লালচে লোমের বনমানুষ বর্তমানে অস্তিত্বের চরম সংকটে। বন্য পরিবেশে ওরাংওটাংয়ের তিনটি প্রধান প্রজাতি— বোর্নিয়ান, সুমাত্রান ও তাপানুলি— বর্তমানে বিলুপ্তির উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওরাংওটাংয়ের অস্তিত্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হলো ব্যাপক হারে বন উজাড়। পাম তেলের চাষ, কাঠ আহরণ, খনি প্রকল্প এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের ফলে বোর্নিও ও সুমাত্রার বনাঞ্চল দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ফলে এই প্রাণীগুলো খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের তীব্র সংকটে ভুগছে।

আবাসস্থল ধ্বংসের ফলে ওরাংওটাং প্রায়ই খাদ্যের সন্ধানে মানুষের লোকালয়ে চলে আসে, যা মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘাত বাড়িয়ে তুলছে। এছাড়া শিকারিদের লোলুপ দৃষ্টি এবং অবৈধ বন্যপ্রাণী পাচারও তাদের অস্তিত্বকে আরও বিপন্ন করে তুলছে।

তবে আশার কথা হলো, ওরাংওটাং রক্ষায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বর্তমানে নানা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মালয়েশিয়ার সাবাহ অঞ্চলে বিচ্ছিন্ন বনাঞ্চলের মধ্যে চলাচলের জন্য বিশেষ সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বনরক্ষীদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও চোরাশিকারবিরোধী নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিদদের মতে, ওরাংওটাংকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে হলে কেবল প্রাণীদের ওপর নজর দিলেই হবে না, বরং তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল অর্থাৎ বনভূমি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

ডিআর