Image description

বিশ্বজুড়ে শিল্পায়ন ও মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জ্বালানির চাহিদা। কিন্তু এই বাড়তি চাহিদা মেটাতে প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা পরিবেশের ওপর তৈরি করছে বিরূপ প্রভাব। তাই উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য রেখে আগামী দিনের জ্বালানি চাহিদা পূরণে বিকল্প ও গ্রিন এনার্জির ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন।

তিনি বলেছেন, ‘চাহিদার কারণে সামনের দিনগুলোতে সারা বিশ্বেই আরও বেশি জ্বালানির প্রয়োজন হবে। তবে গবেষণা বলছে, জ্বালানির চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। কাজেই আগামীর দিনগুলোতে এনার্জি ও এনভায়রনমেন্টকে সমন্বয় করে উদ্ভাবনমুখী গবেষণা করতে হবে। এজন্য বিকল্প জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে এর সহজলভ্যতা ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় আমাদের অবশ্যই গ্রিন এনার্জি উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রুয়েটে আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল সিম্পোজিয়াম অন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ শীর্ষক দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রুয়েটের সিএসই সেমিনার রুমে ইনস্টিটিউট অব এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল স্টাডিজ এবং রুয়েট প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে এ সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউট অব এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রোকনুজ্জামান এবং অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউ এইচ জোয়ারদার।

সিম্পোজিয়ামে পৃথক তিনটি কি-নোট সেশনে গবেষণাভিত্তিক প্রেজেন্টেশন তুলে ধরেন সৌদি আরবের কিং ফাহাদ ইউনিভার্সিটি অব পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মিনারেলসের সহযোগী অধ্যাপক ড. নায়েফ এ এ কাশেম (Dr. Naef A.A. Qasem), চীনের শেনজেনে অবস্থিত হারবিন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অধ্যাপক ড. মো. মাহবুব আলম (Dr. Md. Mahbub Alam) এবং যুক্তরাজ্যের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের রিডার ইন ফ্লুইডস অ্যান্ড অ্যাকোস্টিকস ড. এলদাদ আভিটাল (Dr. Eldad Avital)।

কি-নোট সেশনগুলোতে প্রচলিত জ্বালানির ব্যবহার ও এর ফলে বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা, সম্ভাব্য বিকল্প জ্বালানির উৎস এবং এসব জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে বিশ্ব কীভাবে উপকৃত হতে পারে—এসব বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।

আলোচনায় গবেষকেরা জ্বালানি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে পরিবেশগত স্থায়িত্বের সম্পর্ক তুলে ধরেন। বিশেষ করে কার্বন নিঃসরণ কমাতে নবায়নযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দিনব্যাপী এ সিম্পোজিয়ামে মোট আটটি টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এসব সেশনে দেশ-বিদেশের গবেষকরা শতাধিক গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন। জ্বালানি, পরিবেশ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে এসব গবেষণায় আলোচনা করা হবে।

সিম্পোজিয়ামে রুয়েটের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজনের মাধ্যমে জ্বালানি ও পরিবেশ নিয়ে নতুন গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে এবং টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষায় গবেষকদের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়বে।

এসএ