কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যুর পর শুরু হয়েছে বিভিন্ন হোটেলে প্রশাসনের অভিযান। এতে বিপাকে পড়েছেন কলকাতায় থাকা বাংলাদেশি পর্যটক ও চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীরা।
নিউ মার্কেট, মির্জা গালিব স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকায় একের পর এক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকে বাধ্য হয়ে কলকাতা ছাড়ছেন। কেউ নতুন হোটেল খুঁজছেন, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
গত বুধবার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশিসহ নয়জন নিহত হন। এরপর কলকাতা প্রশাসন বিভিন্ন হোটেল ও অতিথিশালায় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা শুরু করে। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ঘাটতি পাওয়া যাওয়ায় কয়েকটি হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কলকাতার মধ্যাঞ্চলের এসব এলাকা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি পর্যটক ও চিকিৎসাপ্রত্যাশীদের কাছে পরিচিত। কিন্তু শিখা ইন হোটেলের দুর্ঘটনার পর অনেকের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ স্বজনদের ফোন করে দ্রুত দেশে ফিরে যেতে বলছেন।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে হোটেল সংকট। বন্ধ হয়ে যাওয়া হোটেল থেকে বের করে দেওয়া অনেক পর্যটক নতুন থাকার জায়গা খুঁজতে এক হোটেল থেকে আরেক হোটেলে ঘুরছেন।
নতুন করে হোটেল পাওয়া গেলেও আগের তুলনায় বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু হোটেলে ভাড়া দেড় থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে।
বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল কলকাতার হোটেল, খাবারের দোকান, পরিবহণ ও অন্যান্য ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরাও এতে উদ্বিগ্ন। কয়েক বছর নানা কারণে এই ব্যবসাগুলো ক্ষতির মুখে ছিল। পর্যটক আসা কিছুটা বাড়তে শুরু করার সময় নতুন করে হোটেল বন্ধের ঘটনায় ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
তবে কলকাতা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পর্যটকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানা হোটেলের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এসএস




Comments