Image description

তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কোনো সংবাদ প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না করার আহ্বান জানিয়েছেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) প্রশাসক রোকনুজ্জামান রোকন। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তা গণমাধ্যমে তুলে ধরা যেতে পারে। তবে অসত্য বা যাচাই-বাছাইহীন তথ্য প্রচারের মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হলে প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করেন তিনি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে ‘ময়মনসিংহে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণ: গণমাধ্যমের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনকে জড়িয়ে একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মসিক প্রশাসক বলেন, “যে তথ্যের কোনো অস্তিত্ব নেই, সেই তথ্যের দায় চাপিয়ে সংবাদ প্রকাশ অপসাংবাদিকতার অংশ। আমরা গণমাধ্যমের কাছ থেকে সত্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ চাই।”

নগরীর বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ডেঙ্গু সংক্রান্ত সংবাদে ‘রেডজোন’ শব্দের ব্যবহার পাঠকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে। তাই গণমাধ্যমকে বিষয়টি বিবেচনায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর নগরীর বস্তিবাসীর দুর্দশা লাঘবকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। বর্তমানে বস্তিবাসীর জীবনযাত্রার অনেক ক্ষেত্রে আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা ও ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।

জলাবদ্ধতার প্রসঙ্গে মসিক প্রশাসক বলেন, পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না করে নগরীতে নতুন কোনো বাড়ি নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। নতুন বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে অবশ্যই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের চিকিৎসা উপকমিটির আহ্বায়ক সাংবাদিক নিয়ামুল কবীর সজলের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ছিলেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও ডেঙ্গু ফোকাল পারসন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ খান।

তিনি বলেন, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং কিডনি ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ডেঙ্গুতে ঝুঁকি বেশি। কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক উম্মে হাবীবা মীরা, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এইচ কে দেবনাথ, স্বদেশ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুদ্দোহা মাসুম এবং প্রেসক্লাব সদস্য মীর গোলাম মোস্তফা।

সভায় নগরীর ডেঙ্গু পরিস্থিতি, মশক নিধন কার্যক্রম, জলাবদ্ধতা এবং এসব বিষয়ে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এসএ