Image description

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সুন্দরগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি চার মাস ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে দ্রুত মেরামতের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বরাদ্দ পৌঁছায়নি। ফলে বাধ্য হয়ে শিক্ষক ও কর্মচারীরা দীর্ঘ চার মাস ধরে শ্রেণিকক্ষেই দাপ্তরিক কাজ সারছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভাসহ ছয়টি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রবল কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয়ের একটি বিশাল বটগাছ উপড়ে পড়ে। এতে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, করণিক ও শিক্ষকদের মিলনায়তনসহ তিনটি কক্ষ লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। ঘটনার পর পরই স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমান ও তৎকালীন ইউএনও ইফফাত জাহান তুলি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন এবং জরুরি ভিত্তিতে সরকারি বরাদ্দের আশ্বাস দেন। তবে চার মাস পার হয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘটেনি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কে. জে. এম. হাবিবা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, "ঝড়ে উপড়ে পড়া বটগাছটি নিলামে মাত্র ২৭ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এই সামান্য টাকা দিয়ে অফিস কক্ষ মেরামত করা সম্ভব নয়। এমনকি এখন পর্যন্ত গাছটির গোড়া পর্যন্ত অপসারণ করা যায়নি। অত্যন্ত কষ্টের মধ্য দিয়ে আমাদের শ্রেণিকক্ষে বসে দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করতে হচ্ছে।"

এ বিষয়ে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকা তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। এছাড়া উপজেলা পরিষদের নিজস্ব তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তাৎক্ষণিক সাহায্য করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমান বলেন, "ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই তা বিতরণ করা হবে।"

ডিআর