Image description

সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ নদীপথকে ব্যবহার করে ভারত থেকে মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্যের পাচার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। স্থলপথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ায় সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্র এখন সুন্দরবনের দুর্গম রুটকে পাচারের নিরাপদ পথ হিসেবে বেছে নিয়েছে। তবে অভিযানে মাঝেমধ্যে বাহক বা পণ্য ধরা পড়লেও নেপথ্যের মূলহোতারা থাকছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সরেজমিনে উপকূলে অনুসন্ধানে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী, রমজাননগর ও মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকা দিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রটি ভারত থেকে নদীপথে মাদক, গরু, অস্ত্র, চোরাই মোটরসাইকেল, ইলেকট্রনিক পণ্য, নিষিদ্ধ ওষুধ ও প্রসাধনী সামগ্রী এনে স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছে। পাচারের কাজে তারা স্থানীয় নিম্ন আয়ের মানুষ, বিশেষ করে ভ্যানচালকদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবহার করছে।

সম্প্রতি গত ২১ আগস্ট রাতে র‌্যাব-৬ সুন্দরবন সংলগ্ন পাশেখালী গ্রামে অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের মাদক ও মালামাল জব্দ করে। এ সময় একজনকে আটক করা হলেও মূলহোতা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এছাড়া মোংলা কোস্টগার্ডের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, মাদক ও ওষুধ জব্দসহ তিন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ৫৩ লাখ টাকার ওষুধ, বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, বিয়ার, ফেনসিডিল ও ইয়াবা। গত ২৮ জুলাই নীলডুমুর ১৭ বিজিবি প্রায় ৩২ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন সময়ে জব্দকৃত মাদকদ্রব্য ধ্বংস করে।

কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম জানান, ইউনিয়নের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে রাতের আঁধারে মাদক পাচার করে স্থানীয় এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।

সচেতন মহলের মতে, সুন্দরবনের ভৌগোলিক অবস্থান ও দুর্গম চরাঞ্চলকে কাজে লাগিয়ে চোরাকারবারিরা দীর্ঘকাল ধরে এ তৎপরতা চালাচ্ছে। এই পাচার রোধে শুধু সীমান্ত বা নদীপথে নজরদারি বাড়ালেই হবে না, বরং বহনকারীদের পাশাপাশি অর্থের জোগানদাতা ও মূল গডফাদারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

ডিআর