আমরা আমাদের দেশে ফিরতে চাই’—উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের সমাবেশ
নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি
রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার দাবিতে বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশনের ফুটবল মাঠে নাগরিক সংগঠন ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর) এ সমাবেশের আয়োজন করে। এতে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, চলাচলের স্বাধীনতা ও জীবিকার অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে ২০১৭ সালের সহিংসতায় নিহত স্বজনদের স্মরণ এবং ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান জানানো হয়।
সমাবেশে রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী মোহাম্মদ রফিক বলেন, “আমরা বিশ্বের কাছে দশ মিনিট চাই, নয়টা বছর পার করেছি। এ দেশ আমাদের নয়, আমরা আমাদের দেশে ফিরতে চাই। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
ইউসিআরের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যানেলের সদস্য মোহাম্মদ সৈয়দ উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। তবে তারা স্থায়ীভাবে শরণার্থী হিসেবে থাকতে চান না। নিজেদের জন্মভূমি মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চান তারা।
তিনি বলেন, “প্রত্যাবাসন হতে হবে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ। শুধু সীমান্ত পার করে পাঠিয়ে দিলেই হবে না; ফিরে যাওয়ার পর নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, অধিকার ও জীবিকার নিশ্চয়তা থাকতে হবে।”
ইউসিআর নেতা মাস্টার শোয়েব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
সমাবেশের একপর্যায়ে রোহিঙ্গারা প্রায় ১০ মিনিট বিভিন্ন স্লোগান দেন। ‘শেষ হত এক্কান ফিরত চাই আরকান’—অর্থাৎ ‘আমাদের শেষ কথা একটাই, আরকানে ফিরতে চাই’—স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে সমাবেশস্থল।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস উপলক্ষে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এপিবিএনের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার পর প্রাণ বাঁচাতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। এরপর উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে তাদের বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো অধিকাংশ রোহিঙ্গার নিজ দেশে ফেরার অনিশ্চয়তা কাটেনি।
রোহিঙ্গাদের দাবি, নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত তাদের নিজ ভূমি মিয়ানমারে ফেরার সুযোগ তৈরি করতে হবে।
এসএ




Comments