Image description

ব্যবসার ধারাবাহিক লোকসান ও কোটি কোটি টাকার ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে হারুন অর রশিদ খালেক (৩৮) নামের এক ব্যবসায়ী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের বিরিকয়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

​আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে স্থানীয় শফিউল্লাহর আমবাগান থেকে নিহতের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত খালেক ওই গ্রামের সদর উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত খালেক দীর্ঘদিন ধরে বড় পরিসরে ধান, পাট ও পেঁয়াজ ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে গত কয়েক বছর ধরে ব্যবসায় টানা লোকসানের মুখে পড়েন তিনি। বিশেষ করে চলতি মৌসুমে কেনা প্রায় ৫০ লাখ টাকার পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। সব মিলিয়ে ব্যাংক, এনজিও, আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধুদের নামে নেওয়া তাঁর দেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা।

নিহতের ছোট ভাই আব্দুল মালেক জানান, সোমবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে খালেক ফোনে তাঁকে বলেন, "আমার ছোয়ালডা থাকলো তুই দেখিস।" এ সময় তাঁর অবস্থান জানতে চাইলে তিনি শফিউল্লাহর আমবাগানের কথা জানান। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত সেখানে গিয়ে আমগাছের ডালে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।

​নিহতের স্ত্রী মালা খাতুন জানান, সংসারে কোনো পারিবারিক কলহ ছিল না। পাওনাদারদের পাওনা পরিশোধের তীব্র চাপ ও বিপুল অঙ্কের দেনার কারণেই তিনি এমন মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

​এ ব্যাপারে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ঋণের চাপেই এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। 

এসএ