Image description

গাজীপুরের ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে মেলা বন্ধে জেলা প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনার পরও মাঠ থেকে সরেনি মেলার অস্থায়ী স্থাপনা ও সরঞ্জাম। এদিকে মেলা আয়োজন নিয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। তবে আইনি লড়াই আর মেলার সরঞ্জামের স্তূপের মাঝেই মাঠের ফাঁকা জায়গায় ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় মেতেছে স্থানীয় শিশু-কিশোরেরা। তারা দ্রুত মাঠটি পুরোপুরি উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, রাজবাড়ী মাঠের বিভিন্ন অংশে মেলার স্টল, লোহার কাঠামো ও অন্যান্য সরঞ্জাম যত্রতত্র পড়ে রয়েছে। এসব সরঞ্জামের মাঝখানের খালি জায়গাগুলোতেই স্থানীয় কিশোরেরা খেলায় মেতে উঠেছে। 

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাজবাড়ী মাঠটি এই অঞ্চলের শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও শরীরচর্চার প্রধান কেন্দ্র। মেলার কারণে দীর্ঘ সময় মাঠটি অবরুদ্ধ থাকায় খেলাধুলা বন্ধ ছিল। এখন মেলা বন্ধের ঘোষণায় স্বস্তি ফিরলেও সরঞ্জাম না সরানোয় মাঠটি এখনো ব্যবহারের উপযোগী হয়নি।

গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাজির হাসান এ বিষয়ে বলেন, 'মেলা বন্ধের নির্দেশনা জারির পর সরঞ্জাম ও অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই মাঠটি তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বলে আমরা আশা করছি।' হাইকোর্টে রিটের বিষয়ে তিনি জানান, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে এবং আইনগত দিক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, রাজবাড়ী মাঠে মেলা আয়োজন নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগে ১১৮৮৮/২০২৬ নম্বর একটি রিট পিটিশন দায়ের হয়েছে। পিটিশনারের পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোঃ শহিদুল ইসলাম আইনি প্রক্রিয়া পরিচালনা করছেন। ২৩ আগস্ট অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত নোটিশ গৃহীত হয়েছে।

এর আগে রাজবাড়ী মাঠে দীর্ঘমেয়াদি মেলা বন্ধের দাবিতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেন। জনদাবিপূরণে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নূরুল করিম ভূঁইয়া ঘোষণা দেন যে, রাজবাড়ী মাঠে আর কোনো মেলা অনুষ্ঠিত হবে না। এটি জানাজার নামাজ, ঈদের জামাত ও খেলাধুলার জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আইনি জটিলতা দ্রুত কাটিয়ে এবং মেলার সব সরঞ্জাম অপসারণ করে ঐতিহাসিক রাজবাড়ী মাঠটি শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

ডিআর