প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে মাধবপুরের ৭৭ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শূন্য ১৪১ পদ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। উপজেলার মোট ১৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৭টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। একই সঙ্গে সহকারী শিক্ষকের ৬৪টি পদও দীর্ঘদিন ধরে খালি। ফলে প্রয়োজনীয় শিক্ষক ছাড়াই জোড়াতালি দিয়ে চলছে পাঠদান, যা শিক্ষার মান ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস ও শিক্ষক সমিতির তথ্যমতে, উপজেলার প্রধান ও সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে মোট ১৪১টি পদ বর্তমানে শূন্য। প্রধান শিক্ষকের ৭৭টি শূন্য পদের মধ্যে ৩৪টি বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বে এবং ৪৩টিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে প্রশাসনিক কাজ চালানো হচ্ছে।
শিক্ষক সংকটের চরম চিত্র ফুটে উঠেছে ছাতিয়াইন ইউনিয়নের রামেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে ২২৯ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে কর্মরত শিক্ষক মাত্র দুইজন। অনুমোদিত ছয়টি পদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকসহ চারটি পদই ২০১৮ সাল থেকে শূন্য। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহিতোষ চন্দ্র সূত্রধর জানান, মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে ছয়টি শ্রেণির পাঠদান করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। কেউ ছুটিতে বা প্রশিক্ষণে গেলে একজনকে পুরো বিদ্যালয় সামলাতে হয়।
অনুরূপ অবস্থা বুল্লা ইউনিয়নের মাঝিশ্বাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। সেখানে ছয়টি পদের বিপরীতে নিয়মিত শিক্ষক আছেন মাত্র একজন। প্রেষণে (ডেপুটেশন) অন্য বিদ্যালয় থেকে দুইজন শিক্ষক এনে কোনোমতে পাঠদান সচল রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির মাধবপুর উপজেলা শাখার সভাপতি হারুনুর রশিদ মহালদার ও সহ-সভাপতি হেফজুর রহমান বলেন, বিপুলসংখ্যক প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর ফলে একদিকে যেমন পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। দ্রুত নতুন শিক্ষক নিয়োগ ছাড়া এই সংকট নিরসন সম্ভব নয়।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ কবির হোসেন জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে কিছুটা সমস্যা হলেও তারা অন্য বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক সমন্বয় করে পাঠদান সচল রাখার চেষ্টা করছেন। সদ্য বিদায়ী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম জাকিরুল হাসান বলেন, শূন্য পদের বিষয়টি নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে; নতুন নিয়োগ সম্পন্ন হলে এই সংকট কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, প্রাথমিক শিক্ষাই শিশুর ভবিষ্যতের ভিত্তি। দ্রুত এই শিক্ষক সংকট সমাধান না করলে গ্রামীণ জনপদের শিশুদের শিক্ষার মান চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ডিআর




Comments