সরকারি নির্দেশ অমান্য করে মতলবে বদরপুর মাদ্রাসায় পালিত হয়নি ঈদে মিলাদুন্নবী
সারাদেশের ন্যায় চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারি নির্দেশনা মেনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হলেও ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেছে বদরপুর ও.এস দাখিল মাদ্রাসায়। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে এবং সরকারি নির্দেশ অমান্য করে এই মাদ্রাসায় দিবসটি উদযাপন করা হয়নি।
শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা, দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত, স্বরচিত কবিতা পাঠ ও কুইজ প্রতিযোগিতার মতো কর্মসূচি পালনের কথা ছিল। কিন্তু গত ২৬ আগস্ট বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে ওই মাদ্রাসাটিতে তালা ঝুলতে দেখা যায়।
জানা গেছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যথাসময়ে প্রতিষ্ঠানটি খোলা রেখে অনুষ্ঠান পালনের কথা থাকলেও তার আগের দিন সহকারী শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনা করে মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন সুপার মাওলানা আবুল কাশেম। সরকারি প্রজ্ঞাপন পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও তিনি বিভিন্ন অজুহাত ও 'মাদ্রাসার পরিস্থিতির' দোহাই দিয়ে অনুষ্ঠান বন্ধ রাখেন।
সুপারের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাদ্রাসার অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় এলাকাবাসী। রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে ধর্মীয় গুরুত্বসম্পন্ন এই দিবসটি উদযাপনে অবহেলা করায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবুল কাশেম বলেন, "আমি প্রজ্ঞাপন পেয়েছি। তবে ব্যক্তিগত ও মাদ্রাসার পরিস্থিতির কারণে শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করে প্রতিষ্ঠান ও অনুষ্ঠান বন্ধ রেখেছি। শিক্ষকরা ছুটিতে থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।" উপজেলা প্রশাসনকে না জানিয়ে কেন বন্ধ রাখা হলো—এমন প্রশ্নে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, "বিষয়টি আগে জানা ছিল না। মাদ্রাসার সুপারকে তলব করা হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে শোকজ করা হবে। রাষ্ট্রীয় নির্দেশ অমান্য করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম ইশমাম বলেন, "আমি বিষয়টি জানতাম না। এখন খবর নিয়ে দেখছি। সরকারি নির্দেশ অমান্য করার সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
ডিআর




Comments