আমনখেতে পানির টান, ফেটে চৌচির মাঠ
পানির সংকটে বিপাকে চারঘাটের কৃষক, বাড়ছে সেচ ব্যয়ের শঙ্কা
সবুজ ধানের চারা, অথচ নিচের মাটি শুকনো। কোথাও লম্বা ফাটল, কোথাও মাটির বুকজুড়ে চৌচির দাগ। আমনের চারা রোপণের পর জমিতে যে সজীবতা থাকার কথা, সেখানে এখন দেখা দিয়েছে পানির সংকটের চিত্র। পর্যাপ্ত পানির অভাবে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রোপা আমনের জমি শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে। এতে সদ্য রোপণ করা ধানের চারা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন মাঠে সারি সারি আমনের চারা রোপণ করা হয়েছে। কিন্তু জমিতে প্রয়োজনীয় পানি না থাকায় মাটির উপরিভাগ শুকিয়ে শক্ত হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। কোথাও কোথাও ফাটলের কারণে মাটির স্তর আলাদা হয়ে গেছে। পানির অভাবে কিছু ধানের চারা নুয়ে পড়তেও দেখা গেছে।
কৃষকেরা জানান, আমনের চারা রোপণের পর জমিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকা প্রয়োজন। এ সময় জমি অতিরিক্ত শুকিয়ে গেলে চারার শিকড় মাটিতে ঠিকভাবে বিস্তার করতে পারে না। এতে চারার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
উপজেলার সরদহ ইউনিয়নের খোর্দ্দগোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক আবুল কালাম বলেন, ‘অনেক খরচ করে জমি প্রস্তুত করে আমনের চারা লাগিয়েছি। কিন্তু চারা লাগানোর পর জমিতে পানি নেই। মাটি ফেটে যাচ্ছে। এখন দ্রুত পানি না পেলে ধানের চারা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।’
একই এলাকার কৃষক আরমান আলী বলেন, ‘বৃষ্টির ওপর নির্ভর করে আমন চাষ করেছি। এখন জমি শুকিয়ে যাওয়ায় সেচ দিতে হলে বাড়তি খরচ হবে। ধানের ফলন ঠিক থাকবে কি না, তা নিয়েও চিন্তায় আছি।’
কৃষকেরা বলছেন, জমিতে পানি ধরে রাখতে না পারায় অনেককেই এখন বিকল্প হিসেবে সেচের কথা ভাবতে হচ্ছে। এতে আমন চাষের উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বাড়তি সেচের খরচ বড় ধরনের চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এ বিষয়ে চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আল মামুন হাসান বলেন, ‘রোপা আমনের চারা রোপণের পর জমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জমি অতিরিক্ত শুকিয়ে মাটিতে ফাটল দেখা দিলে চারার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। এ অবস্থায় কৃষকদের জমির আর্দ্রতা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
এসএ




Comments