দেবিদ্বারে বৃদ্ধাকে হত্যার পর লাশ ১৩ টুকরো, আসামি গ্রেপ্তার
কুমিল্লার দেবিদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিন (৫৫) নামের এক বৃদ্ধাকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে ১৩টি পলিথিন ব্যাগে ভরে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় অন্যতম আসামি মো. আমির হোসেনকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার পঞ্চসার এলাকায় তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক সাগর বড়ুয়া আমির হোসেনের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তার আমির দেবিদ্বার পৌরসভার চাপানগর এলাকার জহিরুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১ আগস্ট দেবিদ্বার পৌরসভার ছোট আলমপুরের পূর্বাশা আবাসিক এলাকায় ফরিদা ইয়াসমিনের বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নেন মামলার প্রধান আসামি লাইলী আক্তার (৩৫)। গত ৭ আগস্ট শুক্রবার রাতে ফরিদা ইয়াসমিন বাসায় একা থাকার সুযোগে লাইলী আক্তার তার সহযোগী আমির হোসেন, মো. সোহেল রানা ও মো. রবিউল ইসলামকে ডেকে ভেতরে নেন। তারা ঘরে ঢুকে ফরিদা ইয়াসমিনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেন।
হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে এবং আলামত নষ্ট করতে ঘাতকেরা নিহতের মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে ১৩টি পলিথিন ব্যাগে মুড়িয়ে বাড়ির পেছনের ডোবায় ফেলে দেয়। এরপর তারা বাসা থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে পালিয়ে যায়। পরদিন ৮ আগস্ট বিকেলে পুলিশ ওই ডোবা থেকে পলিথিনে মোড়ানো খণ্ডিত মরদেহের ব্যাগগুলো উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে দেবিদ্বার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এর আগে ৮ আগস্ট ঘটনাস্থল থেকেই প্রধান আসামি লাইলী আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছিল।
দেবিদ্বার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহিন মিয়া জানান, গ্রেপ্তার আমির হোসেনকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান আসামি লাইলী আক্তার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডিআর




Comments