জ্বালানি সংকট দেশের শিল্প ও ব্যবসায় বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, গাজীপুর, নরসিংদী, হবিগঞ্জ ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কমে গেছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকার উৎপাদন ক্ষতি হচ্ছে।
রোববার রাজধানীর গুলশানে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য উঠে আসে। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ ও এমসিসিআই যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, গত চার বছরে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বা সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দিলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের অর্থনীতিতে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিল্পাঞ্চলগুলো। নরসিংদীতে ৩০০টির বেশি কারখানা বন্ধ রয়েছে। গাজীপুরে গ্যাসের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ হচ্ছে অর্ধেকেরও কম। সেখানে ১৮ থেকে ২২ শতাংশ কারখানা বন্ধ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। নারায়ণগঞ্জে প্রায় ১ হাজার ৮৫০ কারখানার মধ্যে ৯০০টি বন্ধ রয়েছে।
ময়মনসিংহে গ্যাসনির্ভর শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে। হবিগঞ্জে ১৭১টি কারখানা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে প্রতিদিন ক্ষতির পরিমাণ ১ হাজার কোটি টাকার বেশি। চট্টগ্রামেও শিল্পের সক্ষমতা প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে।
দেশজুড়ে নিটওয়্যার ও ডাইং শিল্পের উৎপাদন ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পেও উৎপাদন কমেছে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। এর প্রভাব পড়ছে ওষুধ, টেক্সটাইল, সিরামিক, চিনি পরিশোধনসহ বিভিন্ন খাতে।
জ্বালানি সংকটের কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধি কমে ২ দশমিক ৮৬ শতাংশে নেমেছে। আগের অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ।
এদিকে নতুন গ্যাস সংযোগের জন্য ১ হাজার ৮৫৭টি আবেদন ঝুলে আছে। এতে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার শিল্প বিনিয়োগ আটকে রয়েছে।
ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, অনির্ভরযোগ্য গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। সংকট মোকাবিলায় রপ্তানিমুখী শিল্প ও বড় শিল্পাঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহে অগ্রাধিকার এবং আগাম লোডশেডিং সূচি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, বর্তমান সংকট দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও জ্বালানি সংগ্রহের দুর্বলতার ফল। শিল্প ও রপ্তানিমুখী খাত রক্ষায় একটি আলাদা শিল্প জ্বালানি নীতি প্রণয়ন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এসএস




Comments