চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ডলুখাল থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের ফলে পুটিবিলা ও চুনতি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ডলুখালের ওপর নির্মিত বেইলি সেতুটি মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এ সেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে দুই উপজেলার প্রায় ২ লক্ষ মানুষ।
ডলুখালের উপর নির্মিত এ সেতুর নিচে ও আশেপাশে থেকে বছরের পর বছর ড্রেজার ও শ্যালো মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত শত শত বালু, মাটি ও গাছবোঝাই ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সেতুটির বেহাল অবস্থা হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডলু খালের উপর দীর্ঘদিনের নির্মিত বেইলি ব্রিজের অবকাঠামো অত্যন্ত নাজুক। ব্রিজের নিচ থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় সেতুর মাঝের পিলারের গোড়ার মাটি সরে গিয়ে প্রায় ৩০ ফুট পাইলিংয়ের অন্তত ২০ ফুট দৃশ্যমান হয়ে পড়েছে। অবকাঠামোগতভাবে দূর্বল হওয়ায় যান চলাচল করার সময় কাঁপন সৃষ্টি হয়। অধিকাংশ স্থানে লোহার পাতগুলো বেঁকে গেছে।
২০১০ সালের বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী সেতু, কালভার্ট, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশ থেকে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ। কোনো সেতুর এক কিলোমিটারের মধ্যে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনেরও সুযোগ নেই। কিন্তু দেশের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বছরের পর বছর এ সেতুর আশেপাশে থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, পুটিবিলা, ফারাঙ্গা ও পানত্রিশা এলাকায় শতাধিক শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ দেখা যায় না। ব্রিজের বেহাল অবস্থা হওয়ায় সামান্য রিক্সা বা সিএনজি চলাচল করলে নড়াচড়া ও লোহার পাতগুলো ঝনঝন আওয়াজ করে। অতিদ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় ব্রিজটি ভেঙে যেতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দীন জানান, পার্বত্য বান্দরবান জেলার লামা ও লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে প্রতিদিন শত শত বালু ভর্তি ট্রাক এ ব্রিজের উপর দিয়ে চলাচল করায় বেইলি ব্রিজটি হুমকির মুখে রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার করা না হলে জান ও মালের ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় জনসাধারণ। তাছাড়া জনস্বার্থে বেইলি ব্রিজের সংস্কারের পাশাপাশি অবৈধভাবে উত্তোলনকৃত শত শত বালু ভর্তি ট্রাক চলাচল বন্ধ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
পুটিবিলা ইউনিয়ন পরিষদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইকবাল হোসাইন বলেন, ব্রিজের খুবই বেহাল অবস্থা। তলদেশ থেকে বালি উত্তোলন করায় এমন অবস্থা হয়েছে। তাই দ্রুত সময়ে মধ্যে সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ জানান তিনি।
এলজিইডির লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী কাজি ফাহাদ বিন মাহমুদ বলেন, নতুন সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অতিভারী যান চলাচল না করার জন্য সতর্কীকরণ হিসেবে একটি ব্যানার দেওয়া হয়েছে।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জনস্বার্থে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এসএ




Comments