খুলনার উপকূলীয় দাকোপ উপজেলায় চাকরির পেছনে না ছুটে হাঁসের খামার করে ভাগ্য বদলেছেন তরুণ উদ্যোক্তা পল্লব গাইন (২৩)। বাবার সাথে মিলে তার এই সমন্বিত খামার এখন ওই অঞ্চলের বেকার যুবকদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
উপজেলার বাজুয়া চড়ারধার গ্রামের পল্লব গাইন উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) শেষ করে আত্মকর্মসংস্থানের পথ বেছে নেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে নিজের উদ্যোগে শুরু করা সেই ছোট্ট খামারটি আজ এক বিশাল সাফল্যে রূপ নিয়েছে। ছেলের আগ্রহ আর হাঁস পালনে তুলনামূলক বেশি লাভ দেখে বাবা জয়দেব গাইনও নিজের লোকসানি মুরগির খামার বন্ধ করে যুক্ত হন ছেলের ব্যবসায়। বর্তমানে তাদের খামারে এক হাজার হাঁস ও চারটি উন্নত জাতের গাভী রয়েছে।
সরেজমিনে খামার ঘুরে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে ৭০০টি হাঁস ডিম দিচ্ছে, যা স্থানীয় বাজারে প্রতি পিস ১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাচ্চার যত্ন ও খাদ্যের খরচ বাদে প্রতি মাসে তাদের নিট আয় থাকছে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা।
উদ্যোক্তা পল্লব গাইন বলেন, “বেকার বসে না থেকে বাবার অনুপ্রেরণায় নিজে কিছু করার সিদ্ধান্ত নিই। হাঁস পালনে খরচ কম কিন্তু লাভ বেশি। বাবা ও আমি কঠোর পরিশ্রম করছি, যার ফল এখন হাতেনাতে পাচ্ছি।” ছেলের সাফল্যে গর্বিত বাবা জয়দেব গাইন জানান, আগে মুরগির খামারে লাভ-লোকসানের হিসাব মেলাতে পারতেন না। কিন্তু এখন তারা পুরোপুরি স্বাবলম্বী এবং সমাজে নতুন পরিচয় তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য দীনবন্ধু মন্ডল এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, পল্লবকে দেখে গ্রামের অনেক বেকার যুবক এখন হাঁস ও গরু পালনে আগ্রহী হচ্ছে।
দাকোপ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার মজুমদার জানান, উপকূলীয় অঞ্চলে হাঁস ও গবাদিপশু পালন অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। বর্তমানে উপজেলায় ২২০টি হাঁসের খামার রয়েছে। পল্লব ও তার বাবার এই উদ্যোগ স্থানীয়দের জন্য অনুপ্রেরণা। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে তাদের খামারে নিয়মিত টিকাদান, চিকিৎসা ও কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সরকারি প্রজনন খামার থেকে স্বল্পমূল্যে বাচ্চা সরবরাহের ব্যবস্থাও করা হবে।
ডিআর




Comments