Image description

যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালাম আজাদকে (বাচ্চু রাজাকার) আপিল করার শর্তে আত্মসমর্পণের সুযোগ দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেওয়া আদেশটি বেআইনি ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “সরকারের ওই আদেশটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর পরিপন্থী ছিল। আইনের ২১ (৩) ধারা অনুযায়ী, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করতে হয়। এই সময়সীমা পার হয়ে গেলে আর কোনো আপিল গ্রহণযোগ্য নয়।”

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, আইনের এই বিধান সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য—চাই তিনি শেখ হাসিনা হোন কিংবা আবুল কালাম আজাদ। 

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনকে ছাপিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নির্বাহী আদেশের নেই। ফলে সরকারের ওই আদেশের মাধ্যমে আপিলের যে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, তা আইনগতভাবে টিকবে না।”

তবে আমিনুল ইসলাম জানান, আপিল করার সুযোগ না থাকলেও ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার আওতায় যেকোনো দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাজা স্থগিত করার ক্ষমতা সরকারের রয়েছে। 

তিনি বলেন, “সরকার যদি কোনো সাজা স্থগিত করে, তবে তাতে প্রসিকিউশনের কোনো আইনি আপত্তি নেই। কারণ এটি সরকারের একান্ত বিবেচনামূলক ক্ষমতা।”

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আবুল কালাম আজাদকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল-২। দীর্ঘকাল পলাতক থাকার পর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড এক বছরের জন্য স্থগিত করেছিল।

চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, নির্ধারিত ৩০ দিনের সময়সীমা পার হওয়ার পর কোনো আসামির আপিল গ্রহণের আইনি পথ বন্ধ হয়ে যায়। এমতাবস্থায় রায় কার্যকর করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প আইনি সুযোগ নেই, যদি না সরকার তার বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে সাজা মওকুফ বা স্থগিত করে।

ডিআর