Image description

কনটেইনারে কোনো পণ্য না থাকলেও কাগজপত্রে প্রায় ৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকার পণ্য রপ্তানি দেখানো হয়েছে। এমন পাঁচটি সন্দেহজনক রপ্তানি চালান আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআর জানায়, ভ্যালমন্ট ফ্যাশনস লিমিটেডের পাঁচটি চালানে মোট ১ লাখ ২১ হাজার ১৭৫ কেজি বা প্রায় ১২১ টন পণ্য রপ্তানি দেখানো হয়েছিল। এসব পণ্যের মূল্য দেখানো হয় ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৩০৪ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

গত ৩ সেপ্টেম্বর কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে রপ্তানির তথ্য যাচাই করার সময় চালানগুলো কর্মকর্তাদের নজরে আসে। চালানগুলোর গন্তব্য, পণ্যের ধরন ও ওজন নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। একই সঙ্গে কোম্পানিটির আমদানি করা কাঁচামালের পরিমাণের তুলনায় রপ্তানির পরিমাণও অস্বাভাবিক মনে হয়।

এরপর চালানগুলো আটক করে তদন্ত শুরু করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

বিল অব এক্সপোর্ট অনুযায়ী, এসব পণ্য ইসাক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের একটি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) থেকে রপ্তানি হওয়ার কথা ছিল। পরে কর্মকর্তারা ওই ডিপোতে গিয়ে পণ্য দেখাতে বলেন।

কিন্তু ডিপো কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কোনো পণ্য দেখাতে পারেননি। তারা জানান, রপ্তানির জন্য ঘোষিত পণ্যগুলো ওই ডিপোতে ঢোকেইনি।

এ ঘটনায় ডিপো কর্তৃপক্ষ ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের কাছ থেকে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে এনবিআর।

কাস্টমস গোয়েন্দারা এখন খতিয়ে দেখছেন, পণ্য ছাড়াই এসব চালানের মাধ্যমে রপ্তানি দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল কি না। একই সঙ্গে কাগজপত্র তৈরি থেকে শুরু করে কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পুরো প্রক্রিয়াও তদন্ত করা হচ্ছে।

ঘটনার সঙ্গে ভ্যালমন্ট ফ্যাশনস, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ডিপোর কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইনসহ প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

এসএস