Image description

কক্সবাজার শহরের প্রাণ হিসেবে পরিচিত বাঁকখালী নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করতে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ (ইসিএ) ঘোষণা এবং নদীর সীমানার সব অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর দায়ের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার হাইকোর্ট বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক নির্দেশনা দেন।

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী আগামী চার মাসের মধ্যে বাঁকখালী নদী ও এর আশপাশের এলাকাকে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আরএস ও বিএস ম্যাপ এবং নদীর বর্তমান প্রবাহ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নদীর সীমানা নির্ধারণ ও সীমানা পিলার স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ে আরও বলা হয়েছে, আগামী চার মাসের মধ্যে বাঁকখালী নদীর সীমানায় থাকা সব অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করতে হবে। পাশাপাশি নদীকে দূষণমুক্ত করা এবং নদীর দুই তীরে উজাড় হয়ে যাওয়া উপকূলীয় বন পুনরুদ্ধার ও বনায়নের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

ছয় মাস পরপর তদারকি ও প্রতিবেদন
বাঁকখালী নদী রক্ষায় আদালতের দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত তদারকির আওতায় এনেছেন হাইকোর্ট। মামলাটিকে ‘কন্টিনিউয়াস ম্যান্ডামাস’ বা চলমান তদারকির মামলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে নদী রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তার অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রতি ছয় মাস পরপর—প্রতি বছর জানুয়ারি ও জুলাই মাসে—আদালতে জমা দিতে হবে।

নদীর নিজস্ব আইনি সত্তা
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত কলম্বিয়ার আত্রাতো ও পেরুর মারানিওন নদীর উদাহরণ টেনে বলেন, নদী শুধু একটি জলধারা নয়; নদীর নিজস্ব আইনি সত্তা ও অধিকার রয়েছে। বাঁকখালী নদীর পরিবেশগত গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দখল, দূষণ ও অবৈধ স্থাপনা থেকে নদীকে রক্ষা এবং এর স্বাভাবিক প্রবাহ ও প্রতিবেশব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন উচ্চ আদালত।

প্রেক্ষাপট ও আইনি প্রক্রিয়া
উল্লেখ্য, দখল ও দূষণের হাত থেকে বাঁকখালী নদীকে রক্ষা করে এর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে ২০১৪ সালে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে ‘বেলা’। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর এই পূর্ণাঙ্গ রায় এল। এর আগে মামলাটি বানচাল করতে দখলকারীদের পক্ষ থেকে ২০২৩ সালে পৃথক একটি মামলা করা হয়েছিল, যা গত ২৪ আগস্ট আদালত খারিজ করে দেন। এই রায়ের ফলে বাঁকখালী নদীকে ইসিএ ঘোষণার পাশাপাশি দখলদার উচ্ছেদ, দূষণমুক্তকরণ এবং উপকূলীয় বন পুনরুদ্ধারের পথ সুগম হলো।

ডিআর