অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলাকারী মনিরুলের বাড়িতে তালা, সপরিবারে নিখোঁজ
ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত মনিরুল হাওলাদারের মাদারীপুরের বাড়িতে এখন পরিবারের কেউ নেই। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গণরোষ ও হামলার আশঙ্কায় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে মনিরুলের মা ও বড় ভাইসহ পরিবারের সবাই বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। এদিকে, বিদেশের মাটিতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এই যুবকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
মনিরুল হাওলাদার মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের খালাসীকান্দি এলাকার মৃত শাজাহান হাওলাদারের ছোট ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মনিরুল দেশে থাকাকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং ধুরাইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান ও তাঁর ছেলে আসিবুর রহমান খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে মনিরুলদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দুটি টিনশেড ঘরের দরজাতেই বাইরে থেকে তালা ঝুলছে। বাড়ির আঙিনায় কাউকে দেখা যায়নি। মনিরুলের চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, বাড়িতে হামলা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় সকালেই মনিরুলের মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন।
মনিরুলের সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দেড় বছর আগে ২৮ লাখ টাকা ঋণ করে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালি যায় মনিরুল। এখনো সেই ঋণের টাকা শোধ হয়নি। সেখানে গিয়ে টাকা আয় না করে দল করা শুরু করেছে। বিদেশে বসে দেশের মান-সম্মান নষ্ট করেছে, ওর বিচার হোক। আমরা ওর সঙ্গে নেই। ওর মতো লোক না থাকাই ভালো।”
এলাকাবাসী বলছেন, মনিরুল দেশে থাকতেও শাজাহান খানের লোক হিসেবে প্রভাব খাটাত। বিদেশে গিয়ে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় এলাকার সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে।
ধুরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাওলাদার জানান, মনিরুল ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন—এটা সবারই জানা। সকালে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ নামের একটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা মনিরুলের বাড়িতে এসে বিচার দাবি করে চলে গেছে। বর্তমানে গ্রামটিতে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই মনিরুলের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কেউ যাতে আইন হাতে তুলে নিয়ে বাড়িঘরে হামলা করতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সদর থানা পুলিশ বিষয়টি নিয়মিত নজরদারি করছে।
ডিআর




Comments