Image description

জাতীয় সংসদে দেশের সার সংকট নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। সরকার বলছে, দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই। বরং চাহিদার তুলনায় বেশি সার মজুত রয়েছে। তবে বিরোধী দলের দাবি, মজুত থাকার কথা বলা হলেও কৃষকরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে তাদের বেশি দামে কালোবাজার থেকে সার কিনতে হচ্ছে।

বুধবার জাতীয় সংসদে ‘দেশজুড়ে তীব্র সার সংকটে কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়া; কৃষকদের মাঝে বিরাজমান আতঙ্ক এবং সম্ভাব্য খাদ্য সংকটের ঝুঁকি নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ’ বিষয়ে আলোচনায় এসব কথা বলেন সংসদ-সদস্যরা। বিষয়টি উত্থাপন করেন জামায়াতের সংসদ-সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান।

মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বলেন, দেশে সারের সংকট মূলত মজুতের কারণে নয়। সরকারের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সার কারখানা বন্ধ রেখে বেশি দামে সার কেনা হচ্ছে। কিন্তু সেই সার কৃষকের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, আগের সরকারের আমলের ডিলারদের বাদ দেওয়া হচ্ছে, এটি ঠিক আছে। কিন্তু নতুন করে দলীয় লোকদের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হলে তারাও দুর্নীতি করলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।

জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই। বরং চাহিদার তুলনায় বেশি সার মজুত রয়েছে। তার দাবি, আগের সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া অনেক ডিলার বর্তমানে পলাতক। তারাই সরকারকে সমস্যায় ফেলতে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সারের সরবরাহ ঠিক রাখতে সারা দেশে নতুন করে প্রায় ৪ হাজার ৯১৮ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। তারা প্রত্যেকে দুজন করে খুচরা ডিলার নিয়োগ করতে পারবেন। এতে প্রায় ১৬ হাজার খুচরা ডিলার যুক্ত হবেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে সারের দাম কম হওয়ায় ভারত ও মিয়ানমারে সার পাচারের কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সার বিতরণের দায়িত্ব ডিলারদের নিয়ম অনুযায়ী পালন করতে হবে।

অন্যদিকে জামায়াতের সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার মো. মাহবুবুল আলম বলেন, সার সংকটের কারণে আগামী রবি ও বোরো মৌসুমে খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। কালোবাজারি বন্ধ, ডিলারদের সিন্ডিকেট ভাঙা এবং কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, সরকার অতিরিক্ত সার মজুত থাকার কথা বললেও কৃষকরা সার পাচ্ছেন না। তাদের কালোবাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও কৃষকরা গুদাম থেকে সার নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। রৌমারীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি মোতায়েন করেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

জামায়াতের সংসদ-সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, সরকার দেশে পর্যাপ্ত সার থাকার কথা বললেও কৃষকরা নির্ধারিত দামের চেয়ে ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দিয়ে সার কিনছেন। তার দাবি, সাতটি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানার মধ্যে ছয়টি বন্ধ রয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কুড়িগ্রামে কৃষকরা বাধ্য হয়ে একটি গুদাম ভেঙে প্রায় ১০ হাজার কেজি সার নিয়ে গেছেন। পাশাপাশি ভর্তুকির সার মিয়ানমারে পাচার এবং এর বিনিময়ে দেশে আইস ও ইয়াবার মতো মাদক আসছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ডিলার নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ তুলে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, নতুন ডিলার নিয়োগে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ডিলারশিপ নিয়ন্ত্রণ করছে বলেও তিনি দাবি করেন।

এসএস