তেঁতুলিয়া নদীতে অব্যাহত ভাঙন
স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও হাজিরহাট রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙন থেকে হাজিরহাট এলাকা রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ভাঙনকবলিত হাজিরহাট এলাকা পরিদর্শন করেছেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে দশমিনা উপজেলা পরিষদের সামনে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, স্থানীয় জেলে, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাজিরহাট দশমিনা উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এ এলাকার পাশ দিয়ে ঢাকাগামী নৌযানসহ পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে মালামাল পরিবহনকারী জাহাজ চলাচল করে। গত ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে হাজিরহাটের বাণিজ্যিক এলাকা ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি, শতাধিক বসতঘর ও একটি কবরস্থান।
স্থানীয়রা জানান, হাজিরহাট এলাকা রক্ষার শেষ সম্বল বেড়িবাঁধটি গত মঙ্গলবার গভীর রাতে আকস্মিকভাবে তেঁতুলিয়া নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এতে এলাকার প্রায় ৫০টি ঘরবাড়ি, একশ একর ফসলি জমি ও একটি গোরস্তান পানিতে তলিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওই রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হাজিরহাটের ভাঙন আজকের একদিনের সমস্যা নয়; এটি দীর্ঘদিনের। অতীতে ভাঙন রোধে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলো স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি। বক্তারা অভিযোগ করেন, হাজিরহাটের ভাঙন রোধের নামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরাদ্দ করা অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়নি। এ বিষয়ে তদন্তের দাবিও জানান তারা।
তারা আরও বলেন, দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে হাজিরহাটের পাশাপাশি দশমিনা সদর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন ভাঙনকবলিত হাজিরহাট এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি সরেজমিনে নদীভাঙনের পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানান।
স্থানীয়রা দ্রুত তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং হাজিরহাট এলাকা রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
এসএ




Comments