Image description

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের চান্দাইকোনায় মহাসড়কের পাশে সিএনজি রাখলেই চালকদের কাছ থেকে ১০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ‘চেইন মেইনটেইন’ করার কথা বলে প্রতি সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার চান্দাইকোনা পশুর হাটের সামনে সিএনজি চালকদের কাছ থেকে এই টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে একাধিক চালক অভিযোগ করেছেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গালিগালাজ ও হুমকির অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফিরোজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

চান্দাইকোনা পশুর হাটসংলগ্ন এলাকায় সিএনজি চালক মো. হেলাল, মো. রাসেল, মো. জহুরুল ইসলামসহ একাধিক চালকের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগ জানা যায়।

চালকদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা চান্দাইকোনা পশুর হাটের সামনে থেকে যাত্রী আনা-নেওয়া করেন। যাত্রী ওঠানামার সুবিধার্থে মহাসড়কের পাশে সিএনজি রাখা হয়। হাটের দিন শনিবার ও মঙ্গলবার সেখানে গাড়ি রাখলেই ফিরোজ উদ্দিন ‘চেইন মেইনটেইন’-এর কথা বলে প্রতিটি সিএনজি থেকে ১০ টাকা করে নেন।

চালক মো. হেলাল বলেন, "সরকারি জায়গায় গাড়ি রাখলেই ১০ টাকা দিতে হয়। আমরা চাঁদা দিতে চাই না। টাকা দিতে না চাইলে অশালীন আচরণ ও হুমকি দেওয়া হয়।"

আরেক চালক মো. রাসেল বলেন, "মহাসড়কের পাশে গাড়ি রাখার জন্য কোনো ব্যক্তিকে আমরা অবৈধভাবে টাকা দিতে চাই না। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।"

অভিযোগকারী চালকদের দাবি, সরকারি জায়গা বা মহাসড়কের পাশে গাড়ি রাখার জন্য কোনো ব্যক্তির এভাবে টাকা আদায়ের বৈধতা রয়েছে কি না, তা প্রশাসনের তদন্ত করে দেখা উচিত। একই সঙ্গে টাকা আদায়ের নামে চালকদের ভয়ভীতি ও হয়রানি বন্ধেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এ ঘটনায় সিএনজি চালকদের পক্ষে চালক মো. আশরাফুল আলম রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. ফিরোজ উদ্দিন বলেন, "আমার জায়গায় সিএনজি রাখা হয় বলেই আমি টাকা নিই। কেউ টাকা না দিলে তো আমি জোর করে টাকা নিতে পারব না।"

রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, "এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগকারীরা সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল খালেক পাটওয়ারী বলেন, "এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনোক্রমেই চাঁদাবাজদের ছাড় দেওয়া হবে না।"

সিএনজি চালকদের প্রত্যাশা, প্রশাসনের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা যাচাই হবে এবং মহাসড়ক ও সরকারি জায়গায় গাড়ি রাখাকে কেন্দ্র করে অবৈধভাবে টাকা আদায়ের কোনো সুযোগ থাকবে না।

ডিআর