বিএসএফের গুলিতে নিহত আসাদুলের পরিবারকে জামায়াতের আর্থিক সহায়তা
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের চান্দেরহাট সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক আসাদুল হকের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে সীমান্তে অন্যায়ভাবে বিএসএফের গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিহত আসাদুল হকের পরিবারের খোঁজখবর নিতে তাঁর বাড়িতে যান ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান। এ সময় তিনি নিহতের স্ত্রী আরিফা বেগমের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান বলেন, "পাখির মতো গুলি করে মানুষ না মেরে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা যেত। সীমান্তে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সীমান্ত হত্যা বন্ধে ও ভবিষ্যতে এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।"
এ সময় পীরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর বাবুল আহাম্মেদ, সাবেক আমীর ও জেলা ইউনিট সদস্য বাবলুর রশিদ, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কাশেম, ঠাকুরগাঁও জেলা ইউনিটের সদস্য ডা. গোলাম মোস্তফা ও উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি নুরুজ্জামানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দিবাগত রাতে পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের ৩৩৩ নম্বর মেইন পিলারের কাছাকাছি ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের চকশিবানন্দ ক্যাম্পের সদস্যদের গুলিতে আসাদুল হক গুরুতর আহত হন। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত পিলার থেকে প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে ভারতের কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসাদুল হকের মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় মোস্তাকিম (৩২) ও শ্রী উধা চন্দ্র রায় (৩৪) নামের আরও দুই বাংলাদেশি আহত হন; তাঁরা বর্তমানে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রবিবার রাত ৯টার দিকে দানাজপুর সীমান্ত দিয়ে আসাদুল হকের মরদেহ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর রাত সাড়ে ১০টায় ইন্দ্রইল গ্রামের নিজ এলাকায় জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়।
ডিআর




Comments