কক্সবাজারে কর্মরত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ৩৯৮ সদস্যকে একযোগে দেশের বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটে বদলি করা হয়েছে। ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর পৃথক আদেশে এসব সদস্যকে কক্সবাজার থেকে প্রত্যাহার করে বিভিন্ন ইউনিট ও জেলায় পদায়ন করা হয়। তবে বদলির আদেশে নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
একযোগে বিপুলসংখ্যক সদস্যের বদলিকে ঘিরে কক্সবাজারে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম বিভাগের স্থানীয় বাসিন্দা এমন কিছু সদস্যকে দীর্ঘদিন একই এলাকায় দায়িত্ব পালনের কারণে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রতি কয়েকজন এপিবিএন সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক পরিবহন বা মাদক-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দা হওয়া কিংবা মাদক-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগকে বদলির সরকারি কারণ হিসেবে কোনো আদেশে উল্লেখ করা হয়নি।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বদলি হওয়া সদস্যদের বড় একটি অংশ টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনকারী ১৬ এপিবিএনে কর্মরত ছিলেন। কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করা সদস্যদের দেশের বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটে পদায়ন করা হয়েছে।
১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক কাওসার সিকদার বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করে এটিকে নিয়মিত বদলির অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মাদক-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের সঙ্গে এই বদলির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তাঁর দায়িত্বকালে একজন সদস্যকে মাদক-সংশ্লিষ্টতায় পাওয়ার কথা জানান তিনি। ওই সদস্য বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলেও জানান।
এর আগে কক্সবাজারে দায়িত্ব পালনকারী এপিবিএনের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে ইয়াবা পরিবহনের অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটকের ঘটনাও ঘটেছে। সম্প্রতি মোটরসাইকেলে ইয়াবা পরিবহনের সময় এক এপিবিএন সদস্যকে ৫৪ হাজার ইয়াবাসহ আটকের ঘটনা আলোচনায় আসে। এর পর এপিবিএনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও সদস্যদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে মাদক-সংশ্লিষ্টতা এড়াতে চট্টগ্রাম বিভাগের নিজ এলাকার বাসিন্দা সদস্যদের অন্যত্র বদলির একটি ধারণার কথা বলা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এপিবিএনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের বদলির ফলে মাঠপর্যায়ে নতুন সদস্যদের দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু হবে।
এর আগে কক্সবাজারে মাদক ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে র্যাব-১৫-এর অধিনায়ক, উপ-অধিনায়কসহ তিন শতাধিক সদস্যকে একযোগে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল।
তবে এবারের ৩৯৮ সদস্যের বদলির ক্ষেত্রে সরকারি আদেশে নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দা হওয়া, দীর্ঘদিন একই এলাকায় দায়িত্ব পালন ও মাদক-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের সঙ্গে এই বদলির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে।
এসএ




Comments