গাজীপুরের তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের লিফট যেন চুরির আদর্শ জোন
গাজীপুরের সরকারি শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লিফট যেন চোরদের জন্য হয়ে উঠেছে ‘আদর্শ জোন’।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, প্রতিদিনই লিফটে ওঠানামার সময় কৌশলে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হচ্ছে। লিফটে ভিড় ও ধাক্কাধাক্কির সুযোগ নিয়ে সংঘবদ্ধ একটি চক্র এসব চুরি করছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
গাজীপুর জেলার অন্যতম বৃহৎ সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। গাজীপুর সদর হাসপাতাল নামে পরিচিত ১৫ তলা ভবনের ৫০০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা রোগী ও স্বজনদের ভিড় থাকায় লিফটগুলোও থাকে ব্যস্ত।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, লিফটে ওঠার সময় অতিরিক্ত ভিড় তৈরি করে একটি চক্র। এ সময় ধাক্কাধাক্কি ও বিশৃঙ্খলার সুযোগে পকেট কিংবা ব্যাগ থেকে মোবাইল ফোন ও টাকা নিয়ে নেয় চক্রের সদস্যরা। চুরি করার পর দ্রুত অন্য তলায় নেমে সটকে পড়ে তারা। ফলে চুরি হওয়ার বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই চোরেরা হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী ও স্বজন দৈনিক মানবকণ্ঠকে জানান, লিফটে ওঠার সময় হঠাৎ করে কয়েকজন একসঙ্গে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়ায় কিংবা ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। কিছুক্ষণ পর লিফট থেকে বের হওয়ার পর দেখা যায় পকেটে থাকা মোবাইল কিংবা টাকা নেই। তখন চোরকে শনাক্ত করা তো দূরের কথা, অনেক সময় কোন তলায় চুরি হয়েছে সেটিও বোঝা যায় না।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে মোবাইল ফোন হারালে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে চিকিৎসার জন্য সঙ্গে রাখা নগদ টাকা চুরি হয়ে গেলে পড়তে হয় বাড়তি আর্থিক সংকটে। তবে হাসপাতালের মতো জায়গায় এসে নতুন করে ঝামেলায় জড়াতে চান না অনেকেই। ফলে চুরির শিকার হলেও অনেকে থানায় অভিযোগ বা জিডি করেন না।
তবে লিফট থেকে মোবাইল ফোন চুরির ঘটনায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের মাধববাড়ী এলাকার বাসিন্দা আদনান রাফি গাজীপুর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের চুরির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।
চুরির অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানানোর কথা বলেন। তবে ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি তারা।
এ বিষয়ে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আমিনুল ইসলাম সোমবার বিকেলে এক খুদে বার্তায় দৈনিক মানবকণ্ঠকে বলেন, "আমাদের আনসার, স্টাফ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মিলে খেয়াল রাখা হয়। এর আগেও কয়েকজন চোরকে ধরে মামলা দেওয়া হয়েছে।"
হাসপাতাল পরিচালক জানান, চক্রটির মধ্যে নারী সদস্যও রয়েছে। তাদের কয়েকজনকে আটক করে মামলা দেওয়া হলেও পরে জামিনে বেরিয়ে এসে আবার একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। চক্রের সদস্যরা নিজেদের পরিচয় আড়াল করতে মুখ ঢেকে ও পোশাক পরিবর্তন করে হাসপাতালে প্রবেশ করে বলেও জানান তিনি।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে যদি লিফটেই বারবার চুরির ঘটনা ঘটে, তাহলে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তাদের দাবি, লিফটের প্রবেশপথ ও ভেতরে সার্বক্ষণিক নজরদারি, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ এবং সন্দেহভাজনদের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে চুরির ঘটনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মানুষজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সাধারণ রোগীরা।
ডিআর




Comments