চুরির অপবাদে মা ও ছেলেকে নির্যাতনের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মানিব্যাগ চুরির অপবাদ দিয়ে জিসান (১২) নামের এক শিশু ও তার মা নাজমা বেগমকে (৩৫) অমানবিক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নুর বিরুদ্ধে। নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) রাতে উপজেলার চাকামাইয়া ইউনিয়নের গামুরবুনিয়া গ্রামে এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দীর্ঘ চার দিন তাঁরা ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারেননি। পরবর্তীতে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।
নির্যাতিত শিশুর মা নাজমা বেগম জানান, দেড় বছর আগে তাঁর স্বামী বাচ্চু হাওলাদার মারা যান। মারা যাওয়ার আগে তিনি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক চুন্নুর ছোট ভাই আবদুল হাইয়ের ৪ বিঘা জমি বন্ধক রেখে এক লাখ টাকা দেন। তবে ওই অর্থ লেনদেনের কোনো লিখিত প্রমাণপত্র ছিল না। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে তিনি একাধিকবার পাওনা টাকার লিখিত কাগজ প্রমাণের জন্য চেয়ে আসছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত ছিলেন বিএনপি নেতা চুন্নু ও তাঁর ভাই আবদুল হাই।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি বৃষ্টির কারণে রাস্তা কর্দমাক্ত হওয়ায় তাঁরা চুন্নুর বাড়ির পাশ দিয়ে যাতায়াত করছিলেন। গত শুক্রবার রাতে চুন্নু ও তাঁর ভাই জিসানসহ তাঁকে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে মানিব্যাগ চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। মূলত জমি বন্ধক রাখার পাওনা টাকার লিখিত প্রমাণ চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়েই এ ধরনের অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে নাজমা বেগম অভিযোগ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নু বলেন, "উক্ত ছেলেটি আমার আত্মীয়। সে চুরি করেছে এবং সে পেশাদার চোর হিসেবে গড়ে উঠছে।"
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনা সম্পর্কে তিনি পূর্ব থেকে অবগত নন। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডিআর




Comments